লাইফস্টাইল ডেস্ক:
সমতল এলাকা থেকে পাহাড়ের ওপরে উঠলে সাধারণত তাপমাত্রা কমতে থাকে। পাহাড়ের চূড়ায় সূর্যের কিছুটা কাছাকাছি পৌঁছেও কেন বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়, তা নিয়ে অনেকেরই কৌতূহল রয়েছে। এর মূল কারণ বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রার পরিবর্তন, বায়ুচাপ এবং বাতাসের আচরণ।
সূর্যের আলো প্রথমে পৃথিবীর পৃষ্ঠকে উত্তপ্ত করে। পরে ভূপৃষ্ঠের সংস্পর্শে থাকা বাতাস সেই তাপ গ্রহণ করে উষ্ণ হয়। এ কারণে সাধারণত ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাস তুলনামূলক বেশি উষ্ণ থাকে। অন্যদিকে, পাহাড়ের ওপরের দিকে উঠলে বায়ুচাপ কমে যায় এবং বাতাসের তাপমাত্রাও সাধারণত হ্রাস পায়।
বায়ুমণ্ডলের সর্বনিম্ন স্তরকে বলা হয় ট্রপোস্ফিয়ার। এই স্তরেই আমাদের দৈনন্দিন আবহাওয়ার বেশির ভাগ ঘটনা ঘটে। ট্রপোস্ফিয়ারে সাধারণত উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাপমাত্রা কমতে থাকে।
উচ্চতায় বায়ুচাপ কম থাকায় বাতাস ওপরের দিকে উঠতে গিয়ে প্রসারিত হয়। এ সময় বাতাসের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। আবহাওয়ার স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রতি এক কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে তাপমাত্রা গড়ে প্রায় ৬ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস কমতে পারে।
তবে এই হার সব জায়গায় বা সব সময় এক থাকে না। বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ, মেঘ, বায়ুপ্রবাহ এবং আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর তাপমাত্রার পরিবর্তন নির্ভর করে।
পাহাড়ি এলাকায় অনেক সময় বাতাসের গতি বেশি থাকে। দ্রুতগতির বাতাস শরীরের চারপাশে থাকা উষ্ণ বায়ুর স্তর সরিয়ে দেয়। ফলে শরীর থেকে তাপ দ্রুত বেরিয়ে যায় এবং প্রকৃত তাপমাত্রার তুলনায় বেশি ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে।
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি, বাতাসের কারণে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হওয়া এবং থার্মোমিটারে মাপা প্রকৃত তাপমাত্রা এক বিষয় নয়। বাতাস শরীরের তাপ হারানোর গতি বাড়ায়, কিন্তু শুধু বাতাসের কারণে পরিবেশের প্রকৃত তাপমাত্রা একই হারে কমে যায় না।
সাধারণত উচ্চতা বাড়লে তাপমাত্রা কমে। তবে সব সময় এমনটি ঘটে না। কখনো কখনো বায়ুমণ্ডলে তাপমাত্রার বিপর্যয় বা ‘টেম্পারেচার ইনভার্সন’ দেখা দেয়। এ অবস্থায় ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি বাতাস তুলনামূলক ঠান্ডা থাকলেও ওপরের স্তরের বাতাস বেশি উষ্ণ হতে পারে।
সব মিলিয়ে, পাহাড়ের উচ্চতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বায়ুচাপের পরিবর্তন, বাতাসের প্রসারণ ও শীতল হওয়া এবং বায়ুপ্রবাহের প্রভাবে সাধারণত তাপমাত্রা কমে যায়। এ কারণেই সমতল এলাকার তুলনায় পাহাড়ের উঁচু স্থানে বেশি ঠান্ডা অনুভূত হয়।



