অনলাইন ডেস্ক:
ঝাল খাবার পছন্দ করেন অনেকে, আবার ঝালের কারণে জিহ্বায় জ্বালাপোড়া, নাক দিয়ে পানি পড়া কিংবা ঘাম হওয়ার ভয়ে অনেকে তা এড়িয়ে চলেন। তবে পরিমিত পরিমাণে মরিচ ও বিভিন্ন মসলা খাওয়ার কিছু সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। ওজন নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে হৃদ্স্বাস্থ্য ও মেজাজের ওপরও এর প্রভাব নিয়ে গবেষণা হয়েছে।
তবে ঝাল খাবার খেলেই হৃদ্রোগ বা উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি কমবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। খাবারের ধরন, পরিমাণ ও ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ওপর এর প্রভাব নির্ভর করে।
মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন নামের উপাদান নিয়ে বিভিন্ন গবেষণায় হৃদ্স্বাস্থ্য ও বিপাকক্রিয়ার ওপর সম্ভাব্য প্রভাব পরীক্ষা করা হয়েছে। কিছু গবেষণায় মরিচ খাওয়ার সঙ্গে কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ ও প্রদাহ কমানোর সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে ঝাল খাবার সরাসরি হৃদ্রোগ প্রতিরোধ করে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ এখনো সীমিত।
মরিচের ক্যাপসাইসিন শরীরের বিপাকক্রিয়া ও শক্তি ব্যয়ের ওপর সামান্য প্রভাব ফেলতে পারে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, ঝাল খাবার ক্ষুধা বা খাবারের আকাঙ্ক্ষা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। তবে শুধু ঝাল খাবার খেয়ে উল্লেখযোগ্য ওজন কমানো সম্ভব নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চাই ওজন নিয়ন্ত্রণের প্রধান উপায়।
মরিচ ও বিভিন্ন মসলার কিছু উপাদান রক্তনালির কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে বলে গবেষণায় দেখা হয়েছে। তবে ঝাল খাবার খেলে উচ্চ রক্তচাপ স্বাভাবিক হয়ে যায়, এমন প্রমাণ নেই। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত লবণ এড়িয়ে চলা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, শরীরচর্চা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
হলুদে থাকা কারকিউমিন এবং মরিচের ক্যাপসাইসিনের সম্ভাব্য প্রদাহবিরোধী বৈশিষ্ট্য নিয়ে গবেষণা চলছে। এসব উপাদান শরীরের কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে রান্নায় ব্যবহৃত সাধারণ পরিমাণের মসলা খেলে হৃদ্রোগ বা স্ট্রোকের ঝুঁকি নিশ্চিতভাবে কমে, এমন দাবি করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
ঝাল খাবার খাওয়ার সময় ক্যাপসাইসিনের কারণে মুখে জ্বালাপোড়া অনুভূত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় শরীরে কিছু রাসায়নিক ও স্নায়বিক পরিবর্তন ঘটতে পারে, যা কারও কারও মধ্যে সাময়িক ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করে। তবে ঝাল খাবার বিষণ্ণতার চিকিৎসা নয় এবং সবার ক্ষেত্রে এর প্রভাব এক রকম হয় না।
পরিমিত ঝাল অনেকের খাদ্যাভ্যাসের অংশ হতে পারে। তবে অতিরিক্ত ঝাল খেলে কারও কারও বুকজ্বালা, অ্যাসিড রিফ্লাক্স, পেটের অস্বস্তি বা ডায়রিয়া হতে পারে। যাঁদের এসব সমস্যা রয়েছে, তাঁদের নিজের সহনশীলতা অনুযায়ী ঝালের পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
সব মিলিয়ে, ঝাল খাবার সুষম খাদ্যতালিকার অংশ হতে পারে। তবে সুস্থ থাকতে শুধু ঝালের ওপর নির্ভর না করে পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।



