Homeঅর্থনীতিমুরগির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, ডিমে স্বস্তি; শীতের সবজিতেও চড়া দাম

মুরগির বাজারে ঊর্ধ্বগতি, ডিমে স্বস্তি; শীতের সবজিতেও চড়া দাম

বিশেষ প্রতিনিধি:

পূজার টানা ছুটিতে রাজধানীর বাজারে ক্রেতার উপস্থিতি কমলেও নিত্যপণ্যের দামে বড় ধরনের স্বস্তি নেই। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রয়লার মুরগির কেজি ২০০ টাকায় উঠেছে, বেড়েছে সোনালি মুরগির দামও। বিপরীতে ডজনপ্রতি ১৫ থেকে ২৫ টাকা কমেছে ফার্মের ডিমের দাম। বাজারে আসতে শুরু করেছে শীতকালীন সবজি, তবে মৌসুমের নতুন সবজি কিনতে ক্রেতাদের এখনো গুনতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। চাল, ডাল ও তেলের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও রয়ে গেছে উচ্চপর্যায়ে।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাজধানীর রামপুরা, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচাসহ কয়েকটি বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া গেছে।

গত সপ্তাহে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে ব্রয়লার মুরগি কেনা গেলেও বর্তমানে অধিকাংশ দোকানে তা বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। কোথাও কোথাও দাম শুরু হয়েছে ১৮০ টাকা থেকে। সোনালি মুরগির কেজিও ৩২০–৩৩০ টাকা থেকে বেড়ে ৩৩০–৩৫০ টাকায় উঠেছে।

রামপুরা বাজারের মুরগি ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, কয়েক দিন ধরে খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কিছুটা কমেছে। ছুটির কারণে এমনটি হতে পারে। এর সঙ্গে পরিবহন ব্যয় ও পোল্ট্রি ফিডের উচ্চমূল্য যুক্ত হওয়ায় আড়তদারদের বেশি দামে মুরগি কিনতে হচ্ছে। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বেড়েছে।

মুরগির দাম বাড়লেও ডিমের বাজারে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। এক সপ্তাহ আগে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন বিক্রি হয়েছিল ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকায়। বর্তমানে তা কমে ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকায় নেমেছে। তবে পাড়া-মহল্লার কিছু দোকানে প্রতি হালি ডিমের দাম এখনো ১৫০ টাকা, আগে যা ছিল ১৫৫ টাকা।

ডিম ব্যবসায়ী আসাদুল্লাহর ভাষ্য, সরকারি নজরদারি ও বাজার তদারকির কারণে পাইকারি পর্যায়ে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে। ছুটিতে চাহিদা কম থাকায় ডিমের দাম কমেছে। আড়তে ডিম দীর্ঘ সময় মজুত করে রাখার সুযোগ না থাকায় আগামী কয়েক দিনে দাম আরও কমতে পারে বলে তিনি আশা করছেন।

মৌসুম বদলের সঙ্গে সঙ্গে বাজারে শীতকালীন সবজির উপস্থিতি বাড়ছে। ফুলকপি, বাঁধাকপি, মুলা ও শিম এখন বেশির ভাগ সবজির দোকানে পাওয়া যাচ্ছে। তবে নতুন সবজির সরবরাহ এখনো পুরোপুরি বাড়েনি বলে দাম রয়েছে তুলনামূলক বেশি।

বাজারভেদে প্রতিটি ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৬০ টাকায়, বাঁধাকপি ৩০ থেকে ৬০ টাকায়। নতুন শিমের কেজি ১২০ থেকে ১৬০ টাকা, যদিও এক সপ্তাহে দাম কেজিতে প্রায় ২০ টাকা কমেছে। মুলা বিক্রি হচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে।

সবজি বিক্রেতা শরিফুল ইসলাম বলেন, প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে ফুলকপি, বাঁধাকপি ও শিম বাজারে আসছে। সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। এর সঙ্গে সঙ্গে দামও কমছে।

পূজার ছুটিতে বাজারে ক্রেতা কম থাকায় কয়েকটি পুরোনো সবজির দামও কমেছে। দুই সপ্তাহ আগে লম্বা বেগুনের কেজি ৯০ থেকে ১০০ টাকা থাকলেও এখন তা বাজারভেদে ৬০ থেকে ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পটল ও ঢ্যাঁড়সের কেজি ৪০ থেকে ৬০ টাকা। করলা, ঝিঙে, চিচিঙ্গা ও বরবটি পাওয়া যাচ্ছে ৬০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে।

তবে সবজির কিছু দামে স্বস্তি মিললেও চাল, ডাল, তেলসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারে তেমন পরিবর্তন নেই। গত এক সপ্তাহে এসব পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে না কমায় সাধারণ ক্রেতাদের ব্যয়ের চাপও কমেনি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments