নিজস্ব প্রতিনিধি:
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এক বা দুই বিষয়ে অকৃতকার্য শিক্ষার্থীরা এক মাসের মধ্যে আবার পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ পাবে। শনিবার সচিবালয়ে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের কার্যক্রম উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।
এবার ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে গড় পাসের হার ৫২ দশমিক ১২ শতাংশ। গত বছর এ হার ছিল ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সে হিসাবে এবার পাসের হার কমেছে ৬ দশমিক ৭১ শতাংশ পয়েন্ট।
পরীক্ষার্থী ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষা বোর্ডগুলোর যৌথ ওয়েবসাইট eduboardresults.gov.bd এবং educationboardresults.gov.bd থেকে ফলাফল দেখতে ও নম্বরপত্রসহ ফল ডাউনলোড করতে পারবে। পাশাপাশি নিজ নিজ শিক্ষা বোর্ডের ওয়েবসাইট থেকেও ফলাফল জানা যাবে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো বোর্ডের ওয়েবসাইটের ‘রেজাল্ট’ বিভাগে গিয়ে প্রতিষ্ঠানের ইআইআইএন নম্বর ব্যবহার করে পুরো ফলাফলের শিট ডাউনলোড করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠান থেকেও সরাসরি ফল সংগ্রহ করতে পারবে।
আন্তশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, যেকোনো মোবাইল ফোন থেকে এসএমএস পাঠিয়ে ফলাফল জানা যাবে। এ জন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে লিখতে হবে:
HSC [বোর্ডের নামের প্রথম তিন অক্ষর] [রোল নম্বর] 2026
এরপর বার্তাটি ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
উদাহরণ: HSC DHA 123456 2026 লিখে ১৬১৪০ নম্বরে পাঠাতে হবে।
শিক্ষা বোর্ড, শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা পত্রিকা অফিস থেকে সরাসরি কোনো ফলাফল বিতরণ করা হবে না।
প্রকাশিত ফলাফলে অসন্তুষ্ট পরীক্ষার্থীরা উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করতে পারবে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ শুরু হবে, চলবে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত। আবেদনপদ্ধতি ও ফি জমা দেওয়ার নিয়মসহ বিস্তারিত তথ্য শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইটে বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হবে।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ১১টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। সারা দেশে ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে ৯ হাজার ৪৩৯টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে।
গত ২ জুলাই এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হয়ে ৮ আগস্ট শেষ হয়। এরপর ১৫ আগস্টের মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার কথা ছিল। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের কয়েকটি লিখিত পরীক্ষা নির্ধারিত সময়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি। পরে স্থগিত পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হলে ৯ সেপ্টেম্বর ওই বোর্ডের লিখিত পরীক্ষা শেষ হয়।
সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি পরীক্ষার্থী ছিল ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে—৩ লাখ ৩৯৩ জন। এ ছাড়া রাজশাহী শিক্ষা বোর্ডে ১ লাখ ৪০ হাজার ৮৩০, যশোরে ১ লাখ ১৭ হাজার ২১০, দিনাজপুরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৭৯, চট্টগ্রামে ৯৯ হাজার ৬৮৮, কুমিল্লায় ৯৪ হাজার ৮০২, ময়মনসিংহে ৭৩ হাজার ৩৭, সিলেটে ৭১ হাজার ৭১১ এবং বরিশালে ৫৮ হাজার ৬৬৪ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ৯২ হাজার ৯০৫ জন এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ১ লাখ ৭ হাজার ৯৬৪ জন পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়।



