নোয়াখালী প্রতিনিধি:
নোয়াখালীর হাতিয়ায় পারিবারিক কলহের জেরে স্ত্রীকে মারধর করে বাড়ির পাশের একটি শুকনো গাছের সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বামী মো. কাশেমের বিরুদ্ধে। শনিবার সকালে রোকসানা (২৫) নামে ওই গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
নিহত রোকসানা উপজেলার সোনাদিয়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের চরচেঙ্গা মাইজছড়া এলাকার বাসিন্দা। তার স্বামী মো. কাশেম। প্রায় সাত বছর আগে তাদের বিয়ে হয়। ঘটনার পর থেকে কাশেম পলাতক রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন হাতিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে রোকসানা ও কাশেমের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে ঝগড়া-বিবাদ চলছিল। এর ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাতে তাদের মধ্যে আবারও বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় কাশেম তার স্ত্রীকে মারধর করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে বাড়ির পাশের একটি শুকনো গাছের সঙ্গে রোকসানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় রেখে তিনি পালিয়ে যান বলে স্থানীয়দের দাবি।
শনিবার ভোর আনুমানিক ৪টা থেকে ৫টার মধ্যে স্থানীয় লোকজন গাছের সঙ্গে রোকসানার মরদেহ ঝুলতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে জাহাজমারা তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক (এসআই) হাফিজুর রহমান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত শেষে হাতিয়া থানায় নেওয়া হয়।
স্থানীয় বাসিন্দা মেহেরাজ ও মিষ্টু অভিযোগ করেন, এর আগেও রোকসানাকে রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল, যার কারণে তার চার মাসের গর্ভের সন্তান মারা যায় বলে তারা দাবি করেন।
তারা আরও বলেন, তাদের জানা মতে, ওই এলাকায় এর আগে চারজন গৃহবধূকে হত্যার পর গাছে ঝুলিয়ে রাখার ঘটনা ঘটেছে। পরে অর্থের বিনিময়ে এসব ঘটনার মীমাংসা করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা। এসব ঘটনায় যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হতো বলে মনে করেন তারা। এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তবে স্থানীয়দের এসব অভিযোগ স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হাতিয়া থানার ওসি মো. কবির হোসেন বলেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



