Homeবিবিধঅপরাধরাস্তা না থাকায় বিচ্ছিন্ন চাউলখোলার শতাধিক পরিবার

রাস্তা না থাকায় বিচ্ছিন্ন চাউলখোলার শতাধিক পরিবার

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

একদিকে কপোতাক্ষ নদের ভাঙন, অন্যদিকে লবণাক্ত পানির প্রভাব। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগ। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নের চাউলখোলা গ্রামের মানুষের জীবন যেন এসব সংকটের মধ্যেই আটকে আছে।

গ্রামটিতে শতাধিক পরিবারের বসবাস। কিন্তু স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তাদের চলাচলের জন্য তৈরি হয়নি একটি ইটের সড়ক। বর্ষায় কাদায় ডুবে যায় গ্রামের পথ, আর শুকনা মৌসুমে ধুলায় একাকার হয়ে পড়ে। ফলে কয়েক কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে গিয়েও স্থানীয়দের নানা ভোগান্তির মুখে পড়তে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রামের প্রধান কাঁচা সড়কটির বিভিন্ন অংশ দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় কোথাও কোথাও রাস্তার দুই পাশ ভেঙে গেছে। বর্ষায় বৃষ্টির পানি জমে পথটি প্রায় অচল হয়ে পড়ে। তখন পায়ে হেঁটে চলাচল করাও কঠিন হয়ে যায়। শুকনা মৌসুমে ধুলাবালিতে দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।

সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হয় অসুস্থ রোগী, বয়স্ক মানুষ ও শিক্ষার্থীদের। জরুরি সময়ে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার মতো উপযোগী সড়ক না থাকায় বিপাকে পড়েন স্বজনরা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদেরও প্রতিদিন কাদামাটি ও ভাঙাচোরা পথ পেরিয়ে যাতায়াত করতে হয়।

স্থানীয়দের ভাষ্য, শুধু অবকাঠামোর অভাবই নয়, এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও সড়কের দুরবস্থা জড়িয়ে আছে। আশপাশের মাছের ঘেরগুলোতে লবণাক্ত পানি ওঠানো-নামানোর ফলে কাঁচা সড়কগুলো আরও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, সরকারি সড়ক ব্যবহার করে মাছ চাষ করা হলেও ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা সংস্কারে ঘের মালিকদের তেমন উদ্যোগ নেই।

চাউলখোলার বাসিন্দারা বলেন, যোগাযোগব্যবস্থা ভালো না থাকায় গ্রামের মানুষ শিক্ষা, চিকিৎসা ও বাজারজাতকরণসহ দৈনন্দিন নানা কাজে সমস্যায় পড়ছেন। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয়ভাবে সড়ক উন্নয়নের দাবি জানানো হলেও স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি।

স্থানীয়রা আরও জানান, কপোতাক্ষ নদের ভাঙনে অতীতে গ্রামের অনেক পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়েছে। ভাঙন ও লবণাক্ততার সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা পরিবারগুলোর জন্য একটি চলাচলযোগ্য সড়ক এখন তাদের অন্যতম প্রধান দাবি।

পদ্মপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বলেন, ‘সড়কটির সমস্যার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরে আনা হয়েছে। সুযোগ ও বরাদ্দ পাওয়া গেলে এটি উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান বলেন, ‘সড়কটির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে প্রকল্পভুক্তির সুযোগ দেখা হবে। এরপর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, প্রকল্প গ্রহণ ও বরাদ্দের মাধ্যমে দ্রুত সড়কটি উন্নয়ন করা হবে। তাদের মতে, একটি টেকসই সড়ক নির্মাণ হলে দীর্ঘদিনের যোগাযোগ বিচ্ছিন্নতা কাটার পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা ও স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments