নিজস্ব প্রতিনিধি:
বায়ুদূষণের মাত্রায় মঙ্গলবার বিশ্বের শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা। সকাল পর্যন্ত ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) স্কোর ছিল ২৩৪, যা ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ শ্রেণির বায়ু হিসেবে বিবেচিত।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তাৎক্ষণিক সূচকে এ তথ্য উঠে এসেছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সকালে আইকিউএয়ারের তালিকায় ঢাকার পর দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল ভারতের কলকাতা। শহরটির একিউআই স্কোর ছিল ১৯৮, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত। ১৯১ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর।
এ ছাড়া ভারতের রাজধানী দিল্লির স্কোর ছিল ১৮৬ এবং ইন্দোনেশিয়ার রাজধানী জাকার্তার স্কোর ১৬২। এ দুই শহর যথাক্রমে তালিকার চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে ছিল।
আইকিউএয়ারের সূচক অনুযায়ী, একিউআই স্কোর শূন্য থেকে ৫০-এর মধ্যে থাকলে বায়ুর মান ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘মাঝারি’ বা সহনীয় মান হিসেবে ধরা হয়।
স্কোর ১০১ থেকে ১৫০ হলে তা সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত হয়। ১৫১ থেকে ২০০ পর্যন্ত বায়ুর মান ‘অস্বাস্থ্যকর’। ২০১ থেকে ৩০০ পর্যন্ত স্কোরকে ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১-এর বেশি স্কোরকে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ বায়ু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।
সে হিসাবে মঙ্গলবার সকালে ঢাকার ২৩৪ স্কোরের অর্থ হলো, রাজধানীর বায়ু ‘খুবই অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা মানুষের জন্য বাইরে অবস্থান ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।
তবে বায়ুমানের এই সূচক স্থির নয়। আবহাওয়া, বাতাসের গতি, আর্দ্রতা, যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজ ও অন্যান্য দূষণের উৎসের প্রভাবে দিনের বিভিন্ন সময়ে একটি শহরের একিউআই স্কোর পরিবর্তিত হতে পারে।
আইকিউএয়ার বিভিন্ন শহরের বায়ুর মানের তাৎক্ষণিক তথ্য প্রকাশ করে। ফলে কোনো নির্দিষ্ট সময়ের তালিকায় একটি শহর শীর্ষে থাকা মানে ওই মুহূর্তে পরিমাপ করা শহরগুলোর মধ্যে তার বায়ুদূষণের মাত্রা সবচেয়ে বেশি ছিল—দিনভর বা দীর্ঘমেয়াদে একই অবস্থান থাকবে এমনটি নয়।
ঢাকার বায়ুদূষণের এমন পরিস্থিতি নগরবাসীর জন্য নতুন উদ্বেগের বিষয় নয়। দীর্ঘদিন ধরেই রাজধানীতে যানবাহনের ধোঁয়া, নির্মাণকাজের ধুলা, রাস্তার ধুলাবালি ও বিভিন্ন ধরনের দূষণ বায়ুর মানকে প্রভাবিত করছে। ফলে তাৎক্ষণিক একিউআই সূচকের পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে দূষণের উৎস নিয়ন্ত্রণ এবং নগরবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে।


