স্পোর্টস ডেস্ক:
একসময় মনে হচ্ছিল, বেলজিয়ামের বিপক্ষে ম্যাচটি ফ্রান্সের জন্য হতাশার রাত হতে যাচ্ছে। প্রথমার্ধে পিছিয়ে থাকা ফরাসিরা ৭৬ মিনিট পর্যন্ত গোলের দেখা পায়নি। এরপর বদলে যায় পুরো চিত্র। শেষ ১৪ মিনিটে চারবার জালে বল পাঠিয়ে ৪-১ গোলের বড় জয় তুলে নেয় ফ্রান্স।
এই জয় শুধু ঘুরে দাঁড়ানোর গল্প নয়, ম্যাচটি ফরাসি ফুটবলের বেশ কিছু পরিসংখ্যানও নতুন করে লিখেছে। সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মাইকেল ওলিসে। জাতীয় দলের হয়ে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই বায়ার্ন মিউনিখ মিডফিল্ডার বেলজিয়ামের বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল।
ফরাসি পরিসংখ্যানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ‘স্ট্যাটস ফুট’-এর হিসাবে, নতুন কোচের অধীনে জাতীয় দলের প্রথম চার ম্যাচেই গোল কিংবা অ্যাসিস্ট করা ফ্রান্সের প্রথম খেলোয়াড় হয়েছেন ওলিসে। এখন পর্যন্ত চার ম্যাচে তার নামের পাশে রয়েছে চার গোল ও দুটি অ্যাসিস্ট।
জাতীয় দলের হয়ে প্রথম ২৯ ম্যাচেও ওলিসের পারফরম্যান্স নজরকাড়া। এই সময়ে ১১ গোল ও ১১ অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি—অর্থাৎ সরাসরি ২২ গোলে অবদান। ১৯৯৭ সালে ইউরি জোরকায়েফের পর ফ্রান্সের হয়ে প্রথম ২৯ ম্যাচে এত বেশি গোলে অবদান রাখা আর কোনো খেলোয়াড় ছিলেন না। জোরকায়েফের অবদান ছিল ২৩ গোলে।
এদিকে ফ্রান্সের আরেক তারকা উসমান দেম্বেলের সময়টা যাচ্ছে কিছুটা বিবর্ণ। জাতীয় দলের সর্বশেষ চার ম্যাচে গোল বা অ্যাসিস্ট করতে পারেননি তিনি। ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত টানা নয় ম্যাচ গোল-অ্যাসিস্টহীন থাকার পর এটিই তার সবচেয়ে দীর্ঘ খরা।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে গোল করেছেন দেজিরে দুয়েও। পিএসজিতে যোগ দেওয়ার পর ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে গোল করা ম্যাচগুলোতে তার দলের রেকর্ড এখন ২৯ জয়, এক ড্র ও এক হার।
ফ্রান্সের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দীর্ঘদিন পর বেলজিয়ামের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে জয়। ১৯৮৬ সালের ২৮ জুনের পর এই প্রথম বেলজিয়ামের জালে এক ম্যাচে চার গোল করল ফ্রান্স।
বেলজিয়ামের বিপক্ষে টানা আটটি অফিশিয়াল ম্যাচেও জয় পেয়েছে ফ্রান্স। দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ের সামগ্রিক হিসাবেও এবার বেলজিয়ামকে ছাড়িয়ে গেছে ফরাসিরা। ফ্রান্সের জয় ৩১টি, বেলজিয়ামের ৩০টি।
সব মিলিয়ে, এক ম্যাচে ফ্রান্সের জয় যেমন এসেছে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে, তেমনি ওলিসের রেকর্ড এবং দেম্বেলের গোলখরা ম্যাচটিকে দিয়েছে আলাদা পরিসংখ্যানগত গুরুত্ব।


