Homeজাতীয়ডিএমসিএইচে বুথভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজন

ডিএমসিএইচে বুথভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ, ভোগান্তিতে রোগীর স্বজন

অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ, ফের সক্রিয় দালালচক্র; অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানোর দাবি

নিজস্ব প্রতিনিধি:

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেক) বুথ ও অ্যাপভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি বেড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় আবারও মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব বাড়ার অভিযোগ করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযোগ রয়েছে, গত ২ সেপ্টেম্বর একটি সংবাদ প্রকাশের পর বুথ ও অ্যাপভিত্তিক অ্যাম্বুলেন্স সেবাটি বন্ধ হয়ে যায়। এর আগে নির্দিষ্ট বুথে যোগাযোগ করে অ্যাম্বুলেন্স নেওয়ার সুযোগ থাকায় রোগীর স্বজনদের একাধিক ব্যক্তির কাছে ছোটাছুটি করতে হতো না। সিরিয়াল অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স দেওয়ার ব্যবস্থায় যানবাহন ব্যবস্থাপনাতেও কিছুটা শৃঙ্খলা তৈরি হয়েছিল বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

সেবা বন্ধ হওয়ার পর দ্রুত অ্যাম্বুলেন্স পেতে রোগীর স্বজনদের ফের বিভিন্ন ব্যক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে অভিযোগ। এতে নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, অ্যাম্বুলেন্সের সিরিয়াল আসার পরও কোনো কোনো চালক বা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি অতিরিক্ত ১০০ থেকে ১৫০ টাকা না দিলে রোগী নিতে অনীহা প্রকাশ করতেন। এ ধরনের ঘটনা সত্য হলে সিরিয়ালভিত্তিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রোগীদের অপেক্ষার সময়ও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ ঘটনায় ওলি, শহিদুল ও ‘কালা জয়নাল’ নামে পরিচিত কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের একটি দিক হলো—তাঁরা অ্যাম্বুলেন্স পরিচালনার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। আবার ওই অতিরিক্ত ভাড়াকেই বুথ ও অ্যাপভিত্তিক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে জনমত তৈরির কাজে ব্যবহার করা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও এই প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দরিদ্র ও অসহায় রোগীদের জন্য অনেক সময় বিনা ভাড়ায় অ্যাম্বুলেন্স সেবা দেওয়া হয়। মানবিক দিক বিবেচনায় সামর্থ্যহীন রোগীদের জরুরি পরিবহন নিশ্চিত করতে এ ধরনের সহযোগিতা করা হয়েছে বলে সংগঠনটির দাবি। তাদের মতে, অ্যাম্বুলেন্স সেবা মূল্যায়নের ক্ষেত্রে এ ধরনের মানবিক সহযোগিতার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ঢামেকের মতো দেশের বৃহৎ সরকারি হাসপাতালে অ্যাম্বুলেন্স সেবার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা প্রকাশ, সিরিয়াল অনুযায়ী অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং রোগীর স্বজনদের অভিযোগ জানানোর কার্যকর ব্যবস্থা থাকলে অনিয়মের সুযোগ কমতে পারে।

একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরাসরি তদারকি জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। রোগী ও স্বজনদের জরুরি প্রয়োজনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বুথভিত্তিক সেবা বন্ধের কারণ এবং ভবিষ্যতে কী ধরনের ব্যবস্থাপনা চালু করা হবে, তা দ্রুত স্পষ্ট করার দাবি উঠেছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments