বিশেষ প্রতিনিধি:
নির্ধারিত দামে কোথাও এলপিজি (তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস) পাওয়া না গেলে বিষয়টি গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে সরকার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামে বর্তমানে যথেষ্ট অস্থিরতা রয়েছে। এ পরিস্থিতির মধ্যেও সরকার এলপিজির দাম সমন্বয় এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার চেষ্টা করছে। তবে কোথাও কোথাও সমন্বয় করা দামে এলপিজি পাওয়া যাচ্ছে না, এমন অভিযোগ পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, খোলা বাজারে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং কমিশন নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি ও অটোগ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে সব জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে অনলাইন সভা করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন।
সরকারের তদারকি কার্যক্রমের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বিভিন্ন জেলায় জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রশাসনের মাধ্যমে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। অনিয়মের ঘটনায় এর আগে জরিমানাও করা হয়েছে। এখন এ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
তবে শুধু অভিযান চালিয়ে এলপিজির বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর ভাষ্য, বাজারে স্থিতিশীলতা আনতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আমদানিকারক ও বোতলজাতকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়ার পরিস্থিতিতে এলপিজির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান, সরকার সে বিষয়টিও বিবেচনায় নিচ্ছে। এতে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হওয়ার ঝুঁকি কমবে এবং বাজারে দাম স্থিতিশীল রাখার সুযোগ তৈরি হবে।
জাহেদ উর রহমান জানান, এলপিজির বাজার পরিস্থিতি নিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে একাধিকবার বৈঠক করেছেন। এসব বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বাজার স্বাভাবিক রাখতে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকার আশা করছে, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনার পাশাপাশি সরবরাহ ও বিক্রয় ব্যবস্থায় নজরদারি বাড়ানোর ফলে এলপিজি নিয়ে চলমান সংকট কমে আসবে।
নির্ধারিত দামে এলপিজি না পাওয়ার অভিযোগ গণমাধ্যমে তুলে ধরার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এলপিজি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি পণ্য। তাই কোথাও নির্ধারিত দামে তা পাওয়া না গেলে বিষয়টি জনস্বার্থে সামনে আসা প্রয়োজন।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার মনে করে না যে শুধু অভিযান পরিচালনাই এ সমস্যার একমাত্র সমাধান। বাজারে সরবরাহ ঠিক রাখা, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, সবগুলো বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করে কাজ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, যারা এলপিজি আমদানি ও বোতলজাতের সঙ্গে যুক্ত, তাদের ব্যবসায়িক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে আইন না মানলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‘এটি একটি সমন্বিত পদক্ষেপ’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধু ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের অভিযান দিয়ে সমস্যার পুরোপুরি সমাধান সম্ভব নয়। বাজার ব্যবস্থাপনা, সরবরাহ এবং আইন প্রয়োগ, সব ক্ষেত্রেই সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
খাদ্যসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ক্ষেত্রেও সরকার একই ধরনের সমন্বিত পদ্ধতিতে পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা।


