Homeজাতীয়করতোয়া পুনরুদ্ধারে ১,১২২ কোটি টাকার প্রকল্প, হবে ১৬ কিমি সড়ক

করতোয়া পুনরুদ্ধারে ১,১২২ কোটি টাকার প্রকল্প, হবে ১৬ কিমি সড়ক

বগুড়া প্রতিনিধি:

বগুড়ার করতোয়া নদীর প্রবাহ ফিরিয়ে আনা, জলাবদ্ধতা নিরসন ও শহরের যানজট কমাতে ১ হাজার ১২২ কোটি টাকার উন্নয়ন প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখনন, নদীতীর সংরক্ষণ, সড়ক ও হাঁটার পথ নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রায় ২৯ লাখ ৭০ হাজার মানুষ সরাসরি উপকৃত হবেন বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

পাউবো সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় করতোয়া নদীর ৯৫ কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। এ ছাড়া ২৮ কিলোমিটার নদীর মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণ এবং বগুড়া শহর অংশে নদীর দুই তীরে ছয় কিলোমিটার ঢাল সংরক্ষণের কাজ করা হবে।

শহরের যানজট কমাতে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে মাটিডালি থেকে বনানী পর্যন্ত ১৬ কিলোমিটার দীর্ঘ ও ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি দত্তবাড়ি থেকে ভাটকান্দি সেতু পর্যন্ত নদীর দুই তীরে ছয় কিলোমিটার হাঁটার পথ নির্মাণ করা হবে। এসব অবকাঠামো বাস্তবায়িত হলে শহরের যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতির পাশাপাশি নদীতীরের পরিবেশ ও সৌন্দর্য বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রকল্পের মেয়াদ চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ২০৩০ সালের জুন পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে বর্ষা মৌসুমে প্রায় ৪৫০ বর্গকিলোমিটার এলাকার পানি নিষ্কাশনের সুযোগ তৈরি হবে। এ ছাড়া নিচু এলাকার প্রায় ২ হাজার ৬০৯ হেক্টর জমি জলাবদ্ধতা থেকে সুরক্ষা পেতে পারে। এতে কৃষি ও মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।

বগুড়া পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. নাজমুল হক বলেন, করতোয়া, ইছামতি ও গজারিয়া নদী পুনঃখননের মাধ্যমে করতোয়ার পানিপ্রবাহ পুনরুজ্জীবিত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। নদী পুনঃখনন করা হলে এর অস্তিত্ব রক্ষা এবং পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রাখার সুযোগ তৈরি হবে।

বগুড়া-৬ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য রেজাউল করিম বাদশা বলেন, শহরের যানজট নিরসন ও মানুষের চলাচলের দুর্ভোগ কমাতে করতোয়া নদীর পূর্ব পাশে ৪০ ফুট প্রশস্ত সড়ক নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। গত ২৮ সেপ্টেম্বর করতোয়া নদী সিস্টেম উন্নয়ন প্রকল্প নিয়ে অনুষ্ঠিত সভায় তিনি এ প্রস্তাব দেন।

পাউবো সূত্র জানায়, প্রকল্পের উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) পুনর্গঠনের পর ২০২৫ সালের ১০ সেপ্টেম্বর পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়। ওই বছরের ৭ ডিসেম্বর প্রকল্পটির যাচাই সভা অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৬ সালের ৬ এপ্রিল জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপন করা হয়। পরে ১৬ জুলাই অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর প্রশাসনিক অনুমোদন, প্রকল্প পরিচালক নিয়োগ ও সরকারি আদেশ জারির কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়।

একসময় তিস্তা নদীর প্রধান শাখাগুলোর একটি ছিল করতোয়া। ১৯৮৮ সালের বন্যার পর তিস্তার গতিপথ পরিবর্তিত হওয়ায় নদীটির মূল উৎস বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। পরবর্তী সময়ে দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে নদীটির অবস্থা আরও নাজুক হয়ে ওঠে। বগুড়া শহরের বিভিন্ন স্থানে নদীর তীর ও তলদেশ দখল করে দোকানপাট ও অন্যান্য স্থাপনা গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন নালা দিয়ে শহরের বর্জ্য নদীতে পড়ায় দূষণও বেড়েছে।

এর আগে ৪৭ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয়ে করতোয়া নদী পুনঃখনন ও ডান তীরে ঢাল সংরক্ষণের কাজ করেছিল পানি উন্নয়ন বোর্ড। নতুন প্রকল্পের মাধ্যমে নদীটির আরও বিস্তৃত অংশ পুনরুদ্ধার, পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা এবং সংশ্লিষ্ট এলাকার পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তবে নদী পুনরুদ্ধারের সুফল নিশ্চিত করতে পুনঃখননের পাশাপাশি অবৈধ দখল উচ্ছেদ, বর্জ্য ফেলা বন্ধ এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments