Homeবিবিধটপ ফাইভভালো কাজ করে যেতে চাই: জাহিদ হাসান

ভালো কাজ করে যেতে চাই: জাহিদ হাসান

তানভীর রায়হান:

দীর্ঘ অভিনয়জীবনে টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত অভিনেতা জাহিদ হাসান। চরিত্রের বৈচিত্র্য, অভিনয়ের সাবলীলতা এবং নিজস্ব উপস্থাপনশৈলীর কারণে তিনি পেয়েছেন দর্শকের ভালোবাসা। সাম্প্রতিক সময়ে ‘উৎসব’, ‘পথহারা মন’ ও ‘আমলনামা’ নাটকে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন তিনি।

সম্প্রতি মোস্তফা কামাল রাজ পরিচালিত ধারাবাহিক ‘ফিরে আসার গল্প’ নিয়ে দর্শকের সামনে হাজির হয়েছেন এই অভিনেতা। গত ৪ অক্টোবর ৬০ বছরে পা দিয়েছেন তিনি। বয়স, অভিনয়ের প্রতি ভালোবাসা, দর্শকের প্রত্যাশা ও নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের নিয়ে কথা বলেছেন তানভীর রায়হানের সঙ্গে।

প্রশ্ন: দীর্ঘ অভিনয়জীবনের পরও আপনাকে নিয়মিত পর্দায় দেখা যাচ্ছে। অভিনয়ের প্রতি এই টান কীভাবে ধরে রেখেছেন?

জাহিদ হাসান: অভিনয়কে আমি সব সময় ভালোবেসেছি। এই ভালোবাসা থেকেই কাজ করে যাচ্ছি। অভিনয় আমার কাছে শুধু পেশা নয়, নিজের অনুভূতি ও চিন্তাকে প্রকাশ করার একটি মাধ্যম। দর্শকের জন্য ভালো কিছু করতে পারলে আনন্দ পাই। যত দিন শারীরিকভাবে কাজ করার সামর্থ্য থাকবে, তত দিন অভিনয় করে যেতে চাই। তবে শুধু কাজ করে যাওয়াই নয়, কাজের মান ধরে রাখাও আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: সম্প্রতি ‘ফিরে আসার গল্প’ ধারাবাহিক নিয়ে দর্শকের সামনে এসেছেন। নাটকটি নিয়ে আপনার প্রত্যাশা কেমন?

জাহিদ হাসান: ‘ফিরে আসার গল্প’ খুবই আবেগপ্রবণ একটি নাটক। এর গল্প, অভিনয় ও নির্মাণে জীবনের নানা অনুভূতি উঠে এসেছে। নাটকটি পরিচালনা করেছেন মোস্তফা কামাল রাজ। তিনি অনেক যত্ন নিয়ে কাজটি করেছেন। প্রচার শুরু হওয়ার পর দর্শকের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি। আমার বিশ্বাস, গল্পটি দর্শকের হৃদয় স্পর্শ করবে। এমন একটি কাজে যুক্ত হতে পেরে ভালো লাগছে।

প্রশ্ন: ‘উৎসব’, ‘পথহারা মন’ ও ‘আমলনামা’য় অভিনয়ের পরও দর্শকের কাছ থেকে প্রশংসা পাচ্ছেন। এই সাফল্যকে কীভাবে দেখছেন?

জাহিদ হাসান: দর্শকের ভালোবাসাই একজন শিল্পীর সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। ‘উৎসব’, ‘পথহারা মন’ ও ‘আমলনামা’য় অভিনয়ের পর যে সাড়া পেয়েছি, তা অবশ্যই আনন্দের। ভালো গল্প ও চরিত্রে কাজ করতে পারলে দর্শকের সঙ্গে একটা সম্পর্ক তৈরি হয়। তাঁরা যখন কাজের প্রশংসা করেন, তখন মনে হয়, পরিশ্রম সার্থক হয়েছে। এই ভালোবাসা আমাকে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা দেয়।

প্রশ্ন: গত ৪ অক্টোবর ৬০ বছরে পা দিয়েছেন। বয়স নিয়ে কোনো বিশেষ উপলব্ধি কাজ করে?

জাহিদ হাসান: না, বয়স নিয়ে একদম ভাবি না। যতক্ষণ নিঃশ্বাস নিতে পারব, ততক্ষণ অভিনয় করে যাব। আমার কাছে বয়সের চেয়ে কাজের মান অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘদিন ধরে অভিনয় করছি, অনেক মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি। এখনো চাই ভালো কাজ করতে, দর্শকের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে। জীবনের আগামী দিনগুলোতেও কাজের মান ধরে রাখতে পারি, এটাই আমার প্রত্যাশা।

প্রশ্ন: বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে একজন অভিনেতার কাজের ধরনেও কি পরিবর্তন আসে?

জাহিদ হাসান: জীবনের অভিজ্ঞতা বাড়ার সঙ্গে মানুষের চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আসে। অভিনয়ের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার একটা ভূমিকা রয়েছে। তবে আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো চরিত্রকে বোঝা এবং সেটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে পর্দায় তুলে ধরা। একজন অভিনেতাকে প্রতিটি চরিত্রের জন্য নতুন করে প্রস্তুতি নিতে হয়। অভিজ্ঞতা কাজে লাগে, কিন্তু প্রতিটি কাজেই নতুন করে শেখার সুযোগ থাকে।

প্রশ্ন: সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচি ও বিনোদন গ্রহণের মাধ্যম বদলেছে। এই পরিবর্তনের সঙ্গে নিজেকে কীভাবে মানিয়ে নিচ্ছেন?

জাহিদ হাসান: সময়ের সঙ্গে দর্শকের রুচি বদলায়, গল্প বলার ধরন বদলায়, দেখার মাধ্যমও বদলায়। এখন দর্শকের সামনে নানা ধরনের কাজ দেখার সুযোগ রয়েছে। তাই গল্পে নতুনত্ব এবং অভিনয়ে আন্তরিকতা থাকা জরুরি। দর্শক কী দেখতে চান, সেটিও বুঝতে হয়। তবে দর্শকের রুচির সঙ্গে তাল মেলাতে গিয়ে কাজের মানের সঙ্গে আপস করা উচিত নয়। ভালো গল্প ও মানসম্মত কাজের গুরুত্ব সব সময়ই থাকবে।

প্রশ্ন: এখন নাটক ও চলচ্চিত্রের পাশাপাশি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মেও বিনোদনের বিস্তার ঘটেছে। একজন অভিনেতার জন্য এতে কী ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে?

জাহিদ হাসান: মাধ্যম বাড়ার ফলে দর্শকের কাছে কাজ পৌঁছানোর সুযোগও বেড়েছে। মানুষ এখন বিভিন্ন মাধ্যমে নাটক ও অন্যান্য বিনোদনমূলক অনুষ্ঠান দেখতে পারেন। এটি শিল্পীদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। তবে যে মাধ্যমেই কাজ করা হোক, গল্প ও চরিত্রের গুরুত্ব কমে যায় না। দর্শক শেষ পর্যন্ত ভালো কাজ দেখতে চান। তাই মাধ্যমের চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের শিল্পীদের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা কেমন? তাঁদের মধ্যে কোন বিষয়টি আপনার ভালো লাগে?

জাহিদ হাসান: প্রতিটি প্রজন্মের চিন্তা ও কাজের ধরন আলাদা। নতুনদের মধ্যে শেখার আগ্রহ ও নতুনভাবে কাজ করার চেষ্টা থাকে। তাঁদের সঙ্গে কাজ করলে পারস্পরিক অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি হয়। অভিনয়ের ক্ষেত্রে শেখার কোনো শেষ নেই। একজন শিল্পীকে সব সময় শেখার মানসিকতা নিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। পারস্পরিক সহযোগিতা থাকলে ভালো কাজ তৈরি করা সম্ভব।

প্রশ্ন: একজন অভিনেতা হিসেবে চিত্রনাট্য হাতে পেলে প্রথমে কোন বিষয়টি আপনাকে আকৃষ্ট করে?

জাহিদ হাসান: আমার কাছে গল্প ও চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ। চরিত্রটি কতটা অর্থবহ, সেটিকে বিশ্বাসযোগ্যভাবে ফুটিয়ে তোলার সুযোগ আছে কি না—এসব বিষয় বিবেচনায় আসে। একজন অভিনেতার কাজ শুধু সংলাপ বলা নয়; চরিত্রের অনুভূতি ও অবস্থান দর্শকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ভালো গল্পের সঙ্গে ভালো চরিত্র পেলে কাজ করার আগ্রহ তৈরি হয়।

প্রশ্ন: দীর্ঘ ক্যারিয়ারে নিজের অভিনয় নিয়ে কখনো নতুন করে ভাবতে হয়েছে?

জাহিদ হাসান: একজন শিল্পী হিসেবে নিজের কাজ নিয়ে ভাবা সব সময়ই জরুরি। প্রতিটি কাজ থেকে কিছু না কিছু শেখার থাকে। কোন কাজ দর্শকের ভালো লেগেছে, কোন জায়গায় আরও ভালো করা যেত—এসব বিষয় উপলব্ধি করার চেষ্টা করি। তবে অতীতের কাজ নিয়ে বসে থাকার চেয়ে সামনে কীভাবে ভালো কাজ করা যায়, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ মনে করি।

প্রশ্ন: দর্শক এখনো আপনার অভিনয় দেখতে চান—এটিকে কি দীর্ঘ অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় সার্থকতা মনে করেন?

জাহিদ হাসান: অবশ্যই, দর্শকের ভালোবাসা অনেক বড় পাওয়া। বহু বছর ধরে কাজ করার পরও মানুষ যখন অভিনীত নাটকের কথা বলেন, ভালো লাগার কথা জানান, তখন সত্যিই আনন্দ হয়। একজন শিল্পীর কাজ দর্শকের মনে জায়গা করে নিতে পারলে সেটিই বড় অর্জন। আমি চাই, আমার কাজ দেখে দর্শক আনন্দ পান, আবেগ অনুভব করেন এবং কাজটি মনে রাখেন।

প্রশ্ন: সামনে নিজের অভিনয়জীবন নিয়ে কী প্রত্যাশা?

জাহিদ হাসান: ভালো কাজ করে যেতে চাই। কাজের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে কাজের মান ধরে রাখা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক যেন আমার অভিনয়ে নতুন কিছু খুঁজে পান, চরিত্রগুলো যেন তাঁদের স্পর্শ করে—এটাই চাই। যত দিন অভিনয়ের সুযোগ থাকবে, তত দিন আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাব।

প্রশ্ন: নতুন প্রজন্মের দর্শকদের উদ্দেশে কিছু বলবেন?

জাহিদ হাসান: দর্শকদের প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা সব সময় থাকবে। বাংলা নাটক, চলচ্চিত্র এবং আমাদের শিল্পীদের পাশে থাকুন। ভালো কাজকে উৎসাহিত করুন। দর্শকের সমর্থন শিল্পীদের এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা দেয়। তাঁদের ভালোবাসা নিয়েই সামনে এগিয়ে যেতে চাই।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments