Homeবিবিধঅপরাধভাগাড় নেই আট পৌরসভায়, গ্রামের পরিবেশেও পড়ছে বর্জ্যের চাপ

ভাগাড় নেই আট পৌরসভায়, গ্রামের পরিবেশেও পড়ছে বর্জ্যের চাপ

নাটোর প্রতিনিধি:

নগর পরিচ্ছন্ন রাখার দায়িত্ব যাদের, সেই পৌরসভাগুলোর বর্জ্যই দূষিত করছে শহরের বাইরের জনপদ। কোথাও মহাসড়কের পাশে, কোথাও নদীর তীরে, আবার কোথাও বাজার ও বসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি ফেলা হচ্ছে ময়লা-আবর্জনা। দুর্গন্ধ, পরিবেশদূষণ ও জনদুর্ভোগের মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাটোর জেলার আটটি পৌরসভার কোনোটিতেই পূর্ণাঙ্গ ডাম্পিং ব্যবস্থা না থাকায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সংকট ক্রমেই শহরের সীমানা ছাড়িয়ে গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে।

জেলার বড়াইগ্রাম ও বনপাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের পাশে। গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কের ধার ঘেঁষে দীর্ঘদিন বর্জ্য ফেলায় আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, বর্জ্যের কারণে খেজুর ও তালগাছসহ অন্তত ছয়টি গাছ মারা গেছে। তারপরও সেখানে নিয়মিত বর্জ্য ফেলছে পৌরসভার গাড়ি।

বড়াইগ্রাম পৌরসভার প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের জন্য সরকারি খাসজমি খোঁজা হচ্ছে। জমি পাওয়া গেলে স্টেশন নির্মাণ করা হবে।

গুরুদাসপুর পৌরসভার বর্জ্য নিয়ে যাওয়া হচ্ছে ধারাবাড়িষা ইউনিয়নের হরিজন পল্লী এলাকায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, সড়ক দিয়ে চলাচলের সময় দুর্গন্ধে নাক চেপে রাখতে হয়। কারও কারও বমিও হয়। নন্দকূজা নদীর তীরেও ফেলা হয়েছে বর্জ্য, যা আশপাশের পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে।

বাগাতিপাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পেরাবাড়িয়া সড়কের পাশে। মালঞ্চি বাজারের আবর্জনা জমা করা হচ্ছে হাটশেডের ভেতরে। অন্যদিকে সিংড়া পৌর শহরের চাঁদপুর এলাকায় বর্জ্য জমিয়ে রাখা হয়। স্তূপ বড় হলে তা সরিয়ে নাটোর-বগুড়া মহাসড়কের জোলারবাতা এলাকায় ফেলা হয়। নাটোর সদর, নলডাঙ্গা ও গোপালপুর পৌরসভাতেও বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলার একই ধরনের চিত্র দেখা গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা আসাদ মোল্লা, হাজী মোহাম্মদ সামি ও শাহাবুদ্দিন জানান, পৌরসভার বর্জ্য ইউনিয়ন পর্যায়ের গ্রামগুলোতে ফেলা হচ্ছে। এ নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেও প্রতিকার পাননি তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগ বিবেচনায় না নিয়েই বর্জ্য ফেলা অব্যাহত রয়েছে।

নাটোর পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৬৯ সালে। জেলার আটটি পৌরসভার মধ্যে নাটোর, সিংড়া, গুরুদাসপুর, বনপাড়া ও বড়াইগ্রাম প্রথম শ্রেণির। গোপালপুর দ্বিতীয় শ্রেণির এবং বাগাতিপাড়া তৃতীয় শ্রেণির পৌরসভা। নলডাঙ্গা রয়েছে তৃতীয় শ্রেণিতে। পৌরসভার শ্রেণি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থাকলেও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর ঘাটতি রয়ে গেছে।

গুরুদাসপুর পৌরসভার প্রশাসক ও ইউএনও হামিদা আফরোজ বলেন, পৌরসভার নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জমি নির্ধারণের পর ডাম্পিং স্টেশনের অনুমোদনও পাওয়া গেছে। শিগগিরই কাজ শুরু হবে বলে আশা করছেন তাঁরা।

স্থানীয় সরকার বিভাগের নাটোরের উপপরিচালক শামীম হোসেন বলেন, পৌরসভাগুলোর কার্যক্রম চললেও বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট স্থান নেই, যা দুঃখজনক। দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যার সমাধান হয়নি। এখন প্রতিটি পৌরসভার নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলার প্রক্রিয়া চলছে। গুরুদাসপুরে ডাম্পিং স্টেশনের অনুমোদন হয়েছে এবং বড়াইগ্রামে জমি খোঁজা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য পৌরসভাতেও এ ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণের উদ্যোগ বাস্তবায়িত না হওয়া পর্যন্ত বর্জ্য কোথায় ও কীভাবে ফেলা হবে, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। নগরের পরিচ্ছন্নতার দায় যেন পাশের গ্রামের মানুষের জন্য পরিবেশগত সংকটে পরিণত না হয়, সে জন্য বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি নিরাপদ নিষ্পত্তির ব্যবস্থাও জরুরি।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments