বিশেষ প্রতিনিধি:
রাজধানীর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে শ্বাসরোধে হত্যার মামলায় মো. মিজানুর রহমান ওরফে মিজান হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিয়ার রহমান এ রায় ঘোষণা করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। পরে সাজা পরোয়ানা দিয়ে তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, নিহত মোসাম্মৎ রেহানার সঙ্গে মিজানুর রহমানের ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী বিয়ে হয়েছিল। তাঁদের সংসারে দুটি কন্যাসন্তান রয়েছে। বিয়ের পর বিভিন্ন সময়ে যৌতুক হিসেবে রেহানার পরিবারের কাছ থেকে আসবাবপত্র ও স্বর্ণালংকার নেন মিজান। এমনকি তাঁর শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে মিজানের বাড়িতে টিনের ঘরও নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছিল।
এরপরও বিভিন্ন সময়ে যৌতুকের দাবিতে মিজান স্ত্রীকে মারধর করতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
মামলার নথি অনুযায়ী, ঘটনার প্রায় ২০ দিন আগে মিজান স্ত্রীর পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। পরে রেহানার ভাই আব্বাস বিকাশের মাধ্যমে মিজানের মোবাইল ফোনে দুই হাজার টাকা পাঠান। অভিযোগ, এরপরও রেহানার ওপর নির্যাতন চালানো হয়।
২০১৯ সালের ২৫ জুলাই সকাল ৭টার আগে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার চর মীরেরবাগ এলাকার একটি ভাড়া বাসায় রেহানাকে গলা টিপে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার খবর পেয়ে পরদিন ঢাকায় এসে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বোনের মরদেহ শনাক্ত করেন রেহানার ভাই। পরে তিনি দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা করেন।
মামলাটির তদন্ত শেষে ২০১৯ সালের ২৯ ডিসেম্বর দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আক্কাস মিয়া মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। পরে ট্রাইব্যুনাল আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের পর মিজানুর রহমান স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষ আদালতে ১০ জন সাক্ষীকে উপস্থাপন করে।
রোববার আদালত এ মামলায় মিজানুর রহমানকে মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের রায় দেন।



