Homeআন্তর্জাতিকপ্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে জনসমাবেশ

প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে দিল্লিতে জনসমাবেশ

রাহুল গান্ধীর মোদিকে হুঁশিয়ারি, ভোট চুরির অভিযোগ মমতার; ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে বিরোধীদের প্রশ্ন

অনলাইন ডেস্ক:

ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে রোববার রাজধানী নয়াদিল্লিতে বড় ধরনের সমাবেশ করেছে কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ইন্ডিয়া। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার অভিযোগ তুলে আয়োজিত এ সমাবেশে বিভিন্ন বিরোধী দলের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশ নেন।

ঐতিহাসিক রামলীলা ময়দানে ‘ভোট বাঁচাও, দেশ বাঁচাও’ স্লোগানে আয়োজিত সমাবেশে বিরোধী নেতারা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) তীব্র সমালোচনা করেন। তাদের অভিযোগ, নির্বাচন প্রক্রিয়া ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করা হচ্ছে।

সমাবেশে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী প্রধানমন্ত্রী মোদিকে সতর্ক করে বলেন, ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তিদেরও একদিন জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে। তিনি বলেন, ‘আপনি কোথাও পালানোর সুযোগ পাবেন না।’

সমাবেশকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই দিল্লিতে বিরোধী নেতাদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে। কর্মসূচির আগে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের বাসভবনে একে একে উপস্থিত হন প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভদ্র, সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব, ন্যাশনাল কনফারেন্স নেতা ফারুক আবদুল্লাহ, এনসিপি নেত্রী সুপ্রিয়া সুলে এবং কেরালার কংগ্রেস নেতা ভি ডি সতীশনসহ বিভিন্ন দলের নেতারা। পরে তারা মিছিল নিয়ে রামলীলা ময়দানে যান।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জিও সমাবেশে অংশ নেন।

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনসহ বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ তোলেন। তিনি প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্মরণ করিয়ে দেন, তারা কেউই সংবিধানের ঊর্ধ্বে নন।

রাহুলের অভিযোগ, ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার নামে বিভিন্ন রাজ্যে প্রায় ১৫ শতাংশ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বিষয়টিকে সাধারণ প্রশাসনিক অনিয়ম হিসেবে দেখতে নারাজ। তার মতে, বিপুলসংখ্যক ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ঘটনা গণতান্ত্রিক অধিকারের ওপর আঘাত। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন ছাড়াও মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, ছত্তিশগড়, মহারাষ্ট্র ও কর্ণাটকের বিধানসভা নির্বাচনে পরিকল্পিতভাবে ভোট কারচুপি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

রাহুলের দাবি, নির্বাচন কমিশনের সহযোগিতা ছাড়া বিজেপির পক্ষে নির্বাচনে জয়লাভ করা সম্ভব হতো না। জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর পর প্রধানমন্ত্রী মোদি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকেও জবাবদিহির মুখোমুখি হতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা ব্যানার্জি বিজেপির বিরুদ্ধে ভোট চুরি এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা দুর্বল করার অভিযোগ তোলেন।

তিনি বলেন, ‘আমরা হারিনি, আমাদের হারানো হয়েছে।’ ভোট কারচুপির মাধ্যমে বিজেপি মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নিয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে ‘ভ্যানিশ কুমার’ বলে কটাক্ষ করে তার পদত্যাগ দাবি করেন মমতা।

তার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় এক কোটিরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে বহু মানুষ ভোটাধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়েছেন। তিনি আরও বলেন, এ প্রক্রিয়া শুধু ভোটাধিকার নয়, মানুষের কর্মসংস্থান, মর্যাদা ও সাংবিধানিক অধিকারকেও হুমকির মুখে ফেলছে।

মমতার অভিযোগ, বিজেপি ও নির্বাচন কমিশন একসঙ্গে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করছে। ভোটার তালিকা সংশোধনের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলেও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

সমাবেশে অংশ নেওয়া বিরোধী নেতাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষায় দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান মমতা। প্রয়োজনে অভিভাবক হিসেবে তিনি তাদের পথ দেখাবেন বলেও মন্তব্য করেন।

কংগ্রেস সংসদ সদস্য শশী থারুরও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ভোটার তালিকা নির্ভুল রাখা জরুরি। তবে অল্পসংখ্যক মৃত ভোটারের নাম তালিকায় থেকে যাওয়ার চেয়ে লাখ লাখ প্রকৃত ভোটারের নাম বাদ পড়া অনেক বেশি বিপজ্জনক।

তার মতে, এ ধরনের ব্যাপক নাম বাদ দেওয়ার ঘটনায় নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

শিবসেনার (উদ্ধব বালাসাহেব ঠাকরে) সংসদ সদস্য সঞ্জয় রাউত বলেন, মানুষ সরকার পরিবর্তন চায়। সমাবেশে যোগ দিতে আসা লোকজনকে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জমায়েত আরও বড় হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

সমাবেশকে কেন্দ্র করে দিল্লি পুলিশ ও নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করে। রামলীলা ময়দান ও আশপাশের এলাকায় প্রায় ১০ হাজার পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয় বলে জানা গেছে।

এর মধ্যে দিল্লি পুলিশের প্রায় তিন হাজার সদস্য এবং সাত হাজারের বেশি আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া কেন্দ্রীয় বাহিনীর অতিরিক্ত ১০ কোম্পানিকে প্রস্তুত রাখা হয় বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

সমাবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন কমিশনের জবাবদিহি এবং ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ তুলে ধরে বিরোধী দলগুলো নিজেদের রাজনৈতিক ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments