কক্সবাজার প্রতিনিধি:
কক্সবাজার শহরের একটি আবাসিক হোটেলের শৌচাগার থেকে কুলছুমা আকতার (২৫) নামের এক নারীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার রাত ৮টার দিকে শহরের কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল এলাকার ‘স্ট্যান্ড পার্ক রিসোর্ট’ থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ জানায়, কুলছুমার গলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রাথমিকভাবে তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কুলছুমা কক্সবাজারের ঈদগাঁও উপজেলার বাসিন্দা। পারিবারিক কলহের জেরে তিনি তাঁর স্বামী মো. হারুনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেছিলেন। ওই মামলার শুনানি ছিল বুধবার। মামলার হাজিরায় অংশ নিতে তিনি ঈদগাঁও থেকে কক্সবাজারে এসে ওই আবাসিক হোটেলে ওঠেন।
হোটেল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার বিকেলে এক ব্যক্তির সঙ্গে কুলছুমা হোটেলে আসেন। তাঁরা স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ৩০২ নম্বর কক্ষ ভাড়া নেন। তাঁদের সঙ্গে কুলছুমার আড়াই বছর বয়সী শিশুও ছিল।
বুধবার সকালে কুলছুমা ও তাঁর সঙ্গে থাকা ব্যক্তি হোটেল থেকে বের হয়ে যান। পরে বেলা ৩টার দিকে তাঁরা আবার হোটেলে ফেরেন। রাতে কুলছুমাকে কক্ষের শৌচাগারে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁর লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ বলছে, কুলছুমার সঙ্গে হোটেলে থাকা ব্যক্তি তাঁর স্বামী মো. হারুন নন। ঘটনার পর ওই ব্যক্তি কৌশলে হোটেল থেকে পালিয়ে যান। তাঁর দেওয়া ঠিকানার সঙ্গেও কুলছুমার পরিবারের সদস্যদের পরিচয়ের মিল পাওয়া যায়নি।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলী বলেন, কুলছুমার সঙ্গে থাকা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত এবং হত্যার রহস্য উদ্ঘাটনের চেষ্টা চলছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেলের দুই কর্মচারীকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
ঘটনার সময় কুলছুমার আড়াই বছর বয়সী শিশুটি হোটেল কক্ষেই ছিল। পরে শিশুটিকে পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


