নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকার কোতয়ালী এলাকার কোর্ট হাউজ স্ট্রিটে পৈতৃক বাড়ির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে ঢাকা আইনজীবী সমিতির বিরুদ্ধে বাড়ি দখল ও স্থাপনা ভাঙচুরের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাড়িটির দাবিদার আনিসুল বারী রাজু। একই সঙ্গে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চেয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন আনিসুল বারী রাজু। তার পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার মেয়ে তানজীন বারী খুশী।
সংবাদ সম্মেলনে রাজু বলেন, কোতয়ালী থানার ৮/১ কোর্ট হাউজ স্ট্রিটের বাড়িটি তার বাবা এম এ আওয়ালের মাধ্যমে তাদের পরিবারের মালিকানায় আসে। তিনি দাবি করেন, ১৯৬৬ সাল থেকে তারা ওই বাড়িতে বসবাস করে আসছেন এবং পরবর্তী সময়ে উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি ও তার তিন ভাই-বোন সম্পত্তিটির মালিক হন।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, সম্পত্তির মালিকানা নিয়ে তার বাবা ১৯৬১ সালের একটি বায়না চুক্তির ভিত্তিতে দেওয়ানি আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালতের রায় ও ডিক্রির পর ১৯৬৬ সালের ১৪ ডিসেম্বর সাফ-কবলা দলিলের মাধ্যমে সম্পত্তিটি রেজিস্ট্রি করা হয়। পরে তার বাবার নামে নামজারি এবং আরএস জরিপেও সম্পত্তিটি রেকর্ডভুক্ত হয় বলে দাবি করেন তিনি।
রাজু আরও বলেন, বাবার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারসূত্রে তিনি ও তার ভাই-বোনেরা সম্পত্তিটির মালিক হন। পরবর্তী সিটি জরিপেও তাদের নামে রেকর্ড হয়েছে। সর্বশেষ ১৪৩৫ বাংলা সন পর্যন্ত নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করেছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে সম্প্রতি তিনি জানতে পারেন, বাড়িটির একটি অংশ অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকাভুক্ত রয়েছে। বিষয়টি জানতে পেরে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন বলে জানান তিনি।
রাজুর অভিযোগ, তার বাড়ির পশ্চিম পাশে অবস্থিত ৮ নম্বর হোল্ডিংয়ের অর্পিত সম্পত্তি লিজ নেওয়ার জন্য ঢাকা আইনজীবী সমিতি জেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছে। ওই জায়গার পুরোনো স্থাপনা অপসারণের সময় তার বাড়ির ক্ষতি হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করেন।
তিনি জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর অর্পিত সম্পত্তি শাখার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের দপ্তরে অনুষ্ঠিত একটি বৈঠকে তাকে জানানো হয়, তার বাড়ির হোল্ডিংয়ের ৩৯১ অযুতাংশ জমি অর্পিত সম্পত্তির ‘ক’ তালিকায় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এরপরই বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রতিকার চেয়ে হাইকোর্টে যান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে রাজু দাবি করেন, রিট আবেদনের শুনানি শেষে গত ৩০ সেপ্টেম্বর বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহ ও বিচারপতি কাজী ওলিউল ইসলামের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল জারি করেছেন। শুনানিতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির পক্ষও উপস্থিত ছিল বলে দাবি করেন তিনি।
তার অভিযোগ, আদালতে রুল জারির পরও বাড়ি ভাঙচুরের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। বাড়িতে থাকা আইনজীবীদের চেম্বার ছেড়ে দেওয়ার জন্যও চাপ দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
রাজু বলেন, তিনি ঢাকা আইনজীবী সমিতির কোনো উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করছেন না। তবে তার দাবি, উন্নয়নকাজের কারণে যেন তার পৈতৃক সম্পত্তি ও বসতবাড়ির ক্ষতি না হয়, সেটিই তার প্রধান উদ্বেগ।
তিনি অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অনুরোধ করা হলেও বাড়ির নিরাপত্তা নিশ্চিত করে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। এতে যেকোনো সময় বাড়িটির স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে তাকে গোপনে বাড়ি ছাড়তে হয়েছে বলেও সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন রাজু। তার স্ত্রী, মেয়ে ও পরিবারের অন্য সদস্যরা বর্তমানে আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান তিনি।
রাজুর আরও অভিযোগ, ঢাকা আইনজীবী সমিতির প্রভাবের কারণে প্রশাসনের কাছ থেকেও তিনি প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় আদালতে চলমান মালিকানা-সংক্রান্ত আইনি প্রক্রিয়া নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পত্তি ও বসতবাড়ি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
তিনি বলেন, পৈতৃক সম্পত্তির মালিকানা ও আইনি অধিকার সংরক্ষণের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে ঢাকা আইনজীবী সমিতির বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।


