আন্তর্জাতিক ডেস্ক
পর্দার কোনো চরিত্রের যন্ত্রণা অনুভব করা আর সেই যন্ত্রণার সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতা মিশে যাওয়া, দুই অভিজ্ঞতা এক নয়। পরিণীতি চোপড়ার ক্ষেত্রে ‘শক’ ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের সময় সেই দুই জগতের সীমারেখা যেন ধীরে ধীরে মুছে গিয়েছিল।
অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় সিরিজটির শুটিং করেছিলেন পরিণীতি। তাঁর অভিনীত চরিত্রটি এমন এক মায়ের, যার সদ্যোজাত কন্যা জন্মের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই হাসপাতাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায়। এরপর মেয়েকে খুঁজে পেতে বছরের পর বছর ছুটতে থাকে সেই মা। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা, অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও মানসিক যন্ত্রণা ধীরে ধীরে তাঁর পুরো জীবনকে গ্রাস করে।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, শুটিংয়ের সময় তিনি অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু তখনও মা হননি। ফলে চরিত্রটির গভীর যন্ত্রণা অনুভব করলেও সেটিকে নিজের মাতৃত্বের বাস্তব অভিজ্ঞতার সঙ্গে মেলানোর পরিস্থিতি তৈরি হয়নি।
পরিণীতির মতে, ওই সময় যদি তাঁর সন্তানের জন্ম হয়ে যেত এবং এরপর তাঁকে একই চরিত্রে অভিনয় করতে হতো, তাহলে পরিস্থিতি অনেক বেশি কঠিন হয়ে উঠত। নিজের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার পর সদ্যোজাত সন্তান হারানোর মতো যন্ত্রণার দৃশ্য ধারণ করা তাঁর পক্ষে মানসিকভাবে সামলানো কঠিন হতো বলে মনে করেন তিনি।
২০২৫ সালে ‘শক’-এর শুটিং চলাকালীন নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পারেন পরিণীতি। তবে তার আগেই সিরিজটির একটি বড় অংশের শুটিং শেষ হয়ে গিয়েছিল। অভিনেত্রীর কাছে বিষয়টি এক অর্থে স্বস্তির ছিল, কারণ তখনও মাতৃত্বের প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা তাঁর হয়নি।
পরবর্তী সময়ে ১৯ অক্টোবর পুত্রসন্তানের মা হন পরিণীতি। মা হওয়ার পর সেই চরিত্রের দিকে তাকানোর অভিজ্ঞতাও তাঁর কাছে বদলে গেছে। এখন চরিত্রটির কথা ভাবলেই তিনি আগের চেয়ে অনেক বেশি গভীরভাবে সেই যন্ত্রণা অনুভব করেন বলে জানিয়েছেন।
পরিণীতির উপলব্ধি, সন্তানের জন্মের পর যদি তাঁকে ওই দৃশ্যগুলোতে অভিনয় করতে হতো, তাহলে চরিত্র ও বাস্তব জীবনের আবেগের মধ্যে দূরত্ব বজায় রাখা তাঁর জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে যেত। প্রতিটি দৃশ্যেই হয়তো চরিত্রের কান্না আর তাঁর নিজের আবেগ একাকার হয়ে যেত।
মাতৃত্ব তাঁর জীবন দেখার দৃষ্টিভঙ্গিতেও পরিবর্তন এনেছে বলে জানিয়েছেন অভিনেত্রী। সন্তান জন্মের পরের অভিজ্ঞতা তাঁকে আরও পরিণত করেছে এবং অভিনয়ে আবেগ বোঝার ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে তাঁর মত।
‘শক’-এর শুটিংয়ের সময় যে অনুভূতিগুলো পরিণীতির কাছে ছিল মূলত একটি চরিত্রের কল্পিত অভিজ্ঞতা, মা হওয়ার পর সেগুলোর অর্থ তাঁর কাছে আরও গভীর ও বাস্তব হয়ে উঠেছে।


