ঢাবি প্রতিনিধি:
গবেষণার হাতেখড়ি হচ্ছে স্কুলেই। নিজেদের ভাবনা, অনুসন্ধান ও গবেষণার ফলাফল নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মিলিত হয়েছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ৩১৮ ক্ষুদে গবেষক। ৫৮টি স্কুলের ৭ম থেকে ১০ম শ্রেণির এসব শিক্ষার্থী এবারের ‘চিন্তার চাষ ক্ষুদে গবেষক সম্মেলন’-এ ১২৮টি গবেষণাপত্র ও ধারণাপত্র উপস্থাপন করছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র (টিএসসি)তে দিনব্যাপী ১১তম এ সম্মেলনের উদ্বোধন করা হয়। পরে টিএসসিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি ভেন্যুতে শিক্ষার্থীরা তাদের গবেষণা ও ধারণা তুলে ধরে।
স্বেচ্ছাসেবী গবেষণা সংগঠন ‘চিন্তার চাষ’ স্কুল পর্যায়ে গবেষণার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়াতে এ আয়োজন করে আসছে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির এবং দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ‘চিন্তার চাষ’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক মামুন আহমেদ বলেন, উচ্চশিক্ষায় গবেষণার মানোন্নয়নে ইউজিসি কাজ করছে। আজকের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের গবেষণা ও উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ক্ষুদে গবেষকদের দেখে তিনি আশাবাদী বলেও উল্লেখ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী বলেন, স্কুল পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এমন আয়োজন আগে তার চোখে পড়েনি। ক্ষুদে গবেষকদের হাত ধরেই দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজি অনুষদের ডিন অধ্যাপক উপমা কবির বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিস্তারের ফলে মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার ওপর নির্ভরতার ধরন বদলে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতেও মৌলিক গবেষণার চর্চা ধরে রাখা জরুরি। মৌলিক গবেষণাই ভবিষ্যতের নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে।
দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেসের পরিকল্পনা সম্পাদক আসজাদুল কিবরিয়া বলেন, তার প্রজন্মে স্কুল পর্যায়ে এমন গবেষণার সুযোগ খুব একটা ছিল না। বর্তমান প্রজন্ম যে সুযোগ পাচ্ছে, তা তাদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
‘চিন্তার চাষ’-এর চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ শফিকুর রহমান বলেন, স্কুল পর্যায়ে গবেষণার চর্চা ছড়িয়ে দিতে সংগঠনটি টানা ১১ বছর ধরে কাজ করছে। ভবিষ্যতেও এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এ প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা নিয়ে তিনি আশাবাদী।
পরিবেশ নিয়ে গবেষণা যমুনা ক্যান্টনমেন্টের শিক্ষার্থীদের
সম্মেলনের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে অংশ নিয়েছে টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের যমুনা ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা। তাদের গবেষণার বিষয় ছিল—‘বাসাবাড়ির সবজির উচ্ছিষ্ট অংশ থেকে জৈব সার তৈরি এবং টব গাছের বৃদ্ধিতে এর কার্যকারিতা পরীক্ষা’।
গবেষণা দলের সার্বিক দায়িত্বে থাকা প্রতিষ্ঠানটির প্রভাষক মো. আবু রায়হান বলেন, সম্মেলনে অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা গবেষণার বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পেয়েছে। এ ধরনের আয়োজন তাদের গবেষণামুখী চিন্তা, সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়াতে সহায়ক।
সম্মেলনে বাংলা গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে রয়েছে বণিক বার্তা এবং ইংরেজি গণমাধ্যম সহযোগী হিসেবে রয়েছে দ্য ফাইনান্সিয়াল এক্সপ্রেস।


