তানভীর রায়হান:
জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে আগামী ৭ নভেম্বর ঢাকায় শোভাযাত্রা আয়োজন করতে যাচ্ছে বিএনপি। দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অনুষ্ঠেয় এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তি ও জনসমর্থন তুলে ধরতে চায় দলটি।
দলীয় সূত্র বলছে, শোভাযাত্রা ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। বিএনপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও বড় জমায়েতের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাজধানীর রাজপথে বড় কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার বিষয়টি নেতাকর্মীদের মধ্যে বাড়তি আগ্রহ তৈরি করেছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় জোট নিয়মিত লংমার্চ ও জনসমাবেশের কর্মসূচি পালন করে আসছে। অন্যদিকে সরকার গঠনের পর থেকে রাজপথের কর্মসূচিতে বিএনপিকে তুলনামূলক কম সক্রিয় দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে ৭ নভেম্বরের শোভাযাত্রাকে দলীয় সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি হিসেবে দেখছেন নেতারা।
এর আগে ২০০৫ সালের সেপ্টেম্বরে বিএনপির ২৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তৎকালীন মহাসচিব আবদুল মান্নান ভুঁইয়াকে সঙ্গে নিয়ে সর্বশেষ বড় শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন তারেক রহমান। প্রায় ১৭ বছর নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই তাঁর নেতৃত্বে প্রথম বড় কেন্দ্রীয় রাজপথের কর্মসূচি হতে যাচ্ছে।
শোভাযাত্রা সফল করতে গত ২৬ অক্টোবর দলের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সভাপতিত্বে ওই সভায় অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা করেন।
যুবদল সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না বলেন, শোভাযাত্রায় বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মীর উপস্থিতি নিশ্চিত করতে তাঁরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন আশা প্রকাশ করেছেন, যুবদলের এক লাখের বেশি নেতাকর্মী এতে অংশ নেবেন।
স্বেচ্ছাসেবক দল ও ছাত্রদলের নেতারাও জানিয়েছেন, শোভাযাত্রায় অংশ নিতে তাঁদের সাংগঠনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্যসচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলেন, এ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিএনপির সাংগঠনিক সক্ষমতার পরিচয় তুলে ধরা হবে। বিরোধী দলগুলোর লংমার্চ ও বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নিয়েছে মাত্র আট থেকে নয় মাস হয়েছে।
শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৭ নভেম্বর দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, গণতন্ত্র ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। ১৯৯০ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনেও এই চেতনার প্রতিফলন ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
দিবসটি উপলক্ষে ৫ থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে দলীয় কার্যালয়সহ বিভিন্ন স্থানে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন, কেন্দ্রীয় শোভাযাত্রা এবং জেলা, মহানগর, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে শোভাযাত্রা। এ ছাড়া দলের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোও পৃথক কর্মসূচি পালন করবে।



