নিজস্ব প্রতিনিধি:
ক্রীড়াবিদদের জন্য সরকারি সহায়তায় এবার কঠোর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন চালু করতে যাচ্ছে সরকার। চার মাস পরপর ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করে তালিকা হালনাগাদ করা হবে। প্রত্যাশিত পারফরম্যান্স না থাকলে ভাতা ও অন্যান্য সুবিধার তালিকা থেকে বাদ পড়বেন কেউ কেউ। একই সঙ্গে ভালো পারফরম্যান্স করা নতুন ক্রীড়াবিদদেরও যুক্ত করা হবে।
রোববার সচিবালয়ে ক্রীড়া কার্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের বিভিন্ন নাগরিক ও পরিবহন সুবিধা নিশ্চিত করতে আয়োজিত এক সভায় এ তথ্য জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে ৩০০ ক্রীড়াবিদকে ক্রীড়া কার্ড দেওয়া হয়েছে এবং তাদের ভাতার আওতায় আনা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে ৫০০ ক্রীড়াবিদকে এই সুবিধার আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে তালিকাটি স্থির থাকবে না। যোগ্যতা ও পারফরম্যান্স বিবেচনায় নিয়মিতভাবে এতে পরিবর্তন আনা হবে।
ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিগগিরই আরও ৯৫ জন ক্রীড়াবিদকে কর্মসূচির আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে ৩১ জনকে ভাতা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। প্রতি চার মাস পরপর পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে মূল্যায়নের মাধ্যমে কেউ তালিকা থেকে বাদ পড়বেন, আবার নতুন ক্রীড়াবিদও যুক্ত হবেন।
ক্রীড়াবিদদের সহায়তা ও ক্রীড়া কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধা দিতে সরকার ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছে বলেও জানান তিনি। এই অর্থের মাধ্যমে ক্রীড়াবিদদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
সভায় ক্রীড়াবিদদের জন্য রেল, বিমান ও সড়কপথে বিভিন্ন সুবিধা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরা হয়। ক্রীড়াবিদরা যেন দেশপ্রেম ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারেন, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ক্রীড়াবিদদের প্রস্তুতি আরও শক্তিশালী করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। আগামী পাঁচ বছর পর অলিম্পিকে পদকের জন্য লড়াই করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করার কথা জানান তিনি। এশিয়ান গেমসসহ গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতাগুলো সামনে রেখে বছরব্যাপী প্রশিক্ষণের ব্যবস্থার কথাও বলেন তিনি।
এ সময় ব্যক্তিগত কারণে বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলতে যায়নি, এমন সিদ্ধান্তের পুনরাবৃত্তি যেন ভবিষ্যতে না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার কথা জানান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।


