Homeসারাদেশখুলনাখালের জলে নৌকা, চারপাশে সবুজ, শালিখা ইকোপার্কে এক টুকরো প্রশান্তি

খালের জলে নৌকা, চারপাশে সবুজ, শালিখা ইকোপার্কে এক টুকরো প্রশান্তি

মাগুরা প্রতিনিধি:

শহুরে ব্যস্ততার বাইরে একটু স্বস্তির নিঃশ্বাস নিতে চাইলে প্রকৃতির কাছে ফেরার বিকল্প নেই। আর সেই প্রকৃতির কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগ তৈরি করেছে মাগুরার শালিখা ইকোপার্ক। শালিখা উপজেলার আড়পাড়া কানুদার খালের তীরে গড়ে ওঠা এই পার্কে একদিকে সবুজ ধানখেত, অন্যদিকে শান্ত খালের জল। তার সঙ্গে আছে বৃক্ষরাজি, নৌভ্রমণ, শিশুদের বিনোদন ও নিরিবিলি পরিবেশ। সব মিলিয়ে জায়গাটি ধীরে ধীরে স্থানীয় মানুষের অবসর কাটানোর আকর্ষণীয় ঠিকানা হয়ে উঠছে।

পার্কে ঢুকতেই চোখে পড়ে বিস্তৃত সবুজ। দূরে ধানখেত, পাশে কানুদার খাল। খালের জলে নৌকার ধীর গতি আর চারপাশের গাছপালার ছায়া ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি কিছুটা হলেও ভুলিয়ে দেয়। বিশেষ করে বিকেলের দিকে প্রকৃতির এই আয়োজন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।

শালিখা ইকোপার্কের অন্যতম আকর্ষণ কানুদার খাল। দর্শনার্থীদের জন্য এখানে প্যাডেল বোট ও সাধারণ নৌকায় ঘোরার ব্যবস্থা রয়েছে। খালের জলে ভেসে চারপাশের সবুজ দেখা কিংবা কিছু সময় নীরবে কাটানো, দুইভাবেই উপভোগ করা যায় প্রকৃতির এই পরিবেশ।

পার্কের সৌন্দর্য বাড়ানোর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষায়ও নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। এখানে বনজ, ফলজ ও ঔষধি বিভিন্ন প্রজাতির গাছ লাগানো হয়েছে। খাল পুনঃখনন এবং মাছের অভয়াশ্রম তৈরির উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। ফলে বিনোদনের পাশাপাশি জলজ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

শুধু বড়দের জন্য নয়, শিশুদের জন্যও রয়েছে আলাদা আয়োজন। দোলনা, স্লাইডসহ বিভিন্ন খেলনা ও রাইড শিশুদের সময়কে আরও আনন্দময় করে তোলে। পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীদের বিশ্রামের জন্য রয়েছে দুই কক্ষের একটি কটেজ। পার্কের প্রশস্ত হাঁটার পথ ধরে ঘুরে দেখার সুযোগও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দা জসিম উদ্দিন বলেন, পার্কটি এখন শালিখার মানুষের বিনোদনের অন্যতম জায়গা হয়ে উঠেছে। প্রতিদিনই বিভিন্ন বয়সী মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে এখানে আসছেন। আরও ভালোভাবে পরিচর্যা ও উন্নয়ন করা হলে জায়গাটির প্রতি মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে।

বন্ধুদের সঙ্গে পার্কে ঘুরতে আসা শিক্ষার্থী রবিনের কাছেও জায়গাটি বেশ আকর্ষণীয়। তার ভাষায়, একই সঙ্গে সবুজ প্রকৃতি ও খালের সৌন্দর্য উপভোগ করা যায়। নৌকায় ঘোরার সুযোগ থাকায় ভ্রমণের আনন্দও বাড়ে। পরিবার নিয়েও এখানে আসা যায় বলে মনে করেন তিনি।

শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হাসান চৌধুরী বলেন, প্রকৃতি ও বিনোদনের সমন্বয়ে শালিখা ইকোপার্ক একটি সম্ভাবনাময় স্থান। এর পরিবেশ ও সৌন্দর্য ধরে রাখতে নিয়মিত পরিচর্যা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগ রয়েছে। ভবিষ্যতে পার্কটিকে আরও আকর্ষণীয় করে স্থানীয় পর্যটন বিকাশে কাজে লাগানোর সুযোগ রয়েছে।

আড়পাড়া বাজার থেকে রিকশা, অটোরিকশা বা থ্রি-হুইলারে সহজেই পৌঁছানো যায় পার্কটিতে। ফলে মাগুরার বিভিন্ন এলাকা থেকে পরিবার কিংবা বন্ধুদের নিয়ে দিনের অবসরে এখানে আসার সুযোগ রয়েছে।

প্রকৃতির কাছে যেতে সবসময় দূরের কোনো পর্যটনকেন্দ্রে ছুটতে হয় না। কখনো কখনো শহর থেকে একটু দূরে থাকা একটি খাল, কয়েক সারি গাছ আর বিস্তীর্ণ সবুজই হয়ে উঠতে পারে প্রশান্তির ঠিকানা। কানুদার খালের শান্ত জল আর সবুজে ঘেরা শালিখা ইকোপার্ক তেমনই একটি সম্ভাবনাময় স্থান—যেখানে কিছু সময় কাটালে ব্যস্ত জীবনের ক্লান্তি থেকে মিলতে পারে স্বস্তির বিরতি।

নিয়মিত পরিচর্যা, পরিবেশ সংরক্ষণ ও প্রয়োজনীয় উন্নয়ন নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে শালিখা ইকোপার্ক শুধু স্থানীয় বিনোদনকেন্দ্র নয়, মাগুরার একটি উল্লেখযোগ্য পর্যটন গন্তব্য হিসেবেও পরিচিতি পেতে পারে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments