Homeপ্রধান সংবাদরাবিতে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের অবস্থান, সাংবাদিকসহ আহত ১০

রাবিতে অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের অবস্থান, সাংবাদিকসহ আহত ১০

জিএসকে মারধরের উদ্দেশ্যে জড়ো হওয়ার অভিযোগ; ভিডিও করতে গিয়ে হামলার শিকার সাংবাদিকরা, প্রক্টরের কক্ষে আশ্রয়

রাবি প্রতিনিধি:

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার মধ্যে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থানের অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। পরে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে এ ঘটনা ঘটে। আহত সাংবাদিকদের কয়েকজনকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে।

আহত সাংবাদিকদের মধ্যে রয়েছেন আগামীর সময়ের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলাম, দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল, বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবান এবং দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজু। হামলায় জাহিদুল ইসলামের মাথা ফেটে যায় বলে জানা গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ঘটনাস্থলে থাকা সাংবাদিকদের ভাষ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার দিকে পরিবহন মার্কেট থেকে মিছিল নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে যান। হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলামকে মারধরের উদ্দেশ্যে তারা সেখানে গিয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ সময় কয়েকজনের হাতে রামদা, চাপাতি, হকি স্টিক, পাইপ ও বেসবল ব্যাটসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র দেখা যায় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। প্রক্টর মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে গেলে অস্ত্রগুলো সরিয়ে ফেলা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরে কয়েকজন সাংবাদিক অস্ত্রের উপস্থিতির ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে গেলে তাদের ওপর হামলা করা হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। দৈনিক সমকালের প্রতিনিধি মাঈনুল ইসলাম রাজুকে লাঠি দিয়ে মারধর এবং আজকের পত্রিকার প্রতিনিধির মুঠোফোন কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। একপর্যায়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রতিনিধি আরিফ উজ্জামান কোরবানও হামলার শিকার হন।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রক্টর সাংবাদিকদের হলের ভেতরে নিয়ে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার খবর পেয়ে অন্য সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিনিধি নূর আহসান মৃদুল ও আগামীর সময়ের প্রতিনিধি জাহিদুল ইসলামও মারধরের শিকার হন।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি সুলতান আহমেদ রাহী বলেন, বিষয়টি তিনি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে জানিয়েছেন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ হয়েছেন। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও পুলিশও ভয়ে সরে যায় বলে তিনি দাবি করেন।

যেভাবে উত্তেজনার সূত্রপাত
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারকে নিয়ে ছাত্রদল নেতা এম আহসান হাবীবের একটি ফেসবুক পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত।

আহসান হাবীবের অভিযোগ, ওই পোস্টের মন্তব্যে রাকসুর সহসাংস্কৃতিক সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম তার মা ও বোনকে নিয়ে গালাগাল করেন। তবে রাকিবুল ইসলামের দাবি, তাকে মারধরের হুমকি দিয়ে অবস্থান জানতে চেয়েছিলেন আহসান হাবীব। পরে দুজনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্ট করেন।

শনিবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শহীদ জিয়াউর রহমান হলের সামনে অবস্থান করেন রাকিবুল। পরে বিকেল ৫টা ৫৪ মিনিটে সেখানে অবস্থান নেন আহসান হাবীব। তার সঙ্গে থাকা কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর হাতে বেসবল ব্যাট দেখা যায় বলে অভিযোগ রয়েছে। তারা রাত ১০টা পর্যন্ত সেখানে অবস্থানের ঘোষণা দেন।

এর পর ছাত্রদলের ওই অবস্থান নিয়ে হল সংসদের জিএস আরিফুল ইসলাম ফেসবুকে পোস্ট দেন। অভিযোগ রয়েছে, এর পর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা রড, পাইপ, চাপাতিসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হলের সামনে অবস্থান নেন। সেখানেই পরে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে।

ঘটনার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও জড়িতদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা জানতে সংশ্লিষ্টদের আরও বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments