নিজস্ব প্রতিনিধি:
সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস বিক্রি এবং বিশেষ পাইপের মাধ্যমে গ্যাস স্থানান্তর করে ওজনে কারচুপির অভিযোগে সাভারের দুটি ডিলার পয়েন্টকে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।
রোববার সাভারের আমতলা ও কুটুরিয়া বাজারে অভিযান চালিয়ে প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে এসব অনিয়ম শনাক্ত করা হয়। অভিযানে কারচুপিতে ব্যবহৃত বিশেষ পাইপ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সিল-স্টিকারও জব্দ করা হয়েছে।
অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালকের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আমতলার হাজী আব্দুর রহমান এন্টারপ্রাইজকে ১০ হাজার টাকা এবং কুটুরিয়ার ইকবাল এন্টারপ্রাইজকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
অভিযান সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করা এবং প্রদর্শিত মূল্যতালিকার চেয়ে বেশি দামে এলপি গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যায়। এর পাশাপাশি বিশেষ পাইপ ব্যবহার করে গ্যাস স্থানান্তরের মাধ্যমে ওজনে কারচুপির বিষয়ও ধরা পড়ে।
এদিকে শুধু এলপি গ্যাস নয়, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারেও অনিয়ম ঠেকাতে একই দিনে দেশব্যাপী বিশেষ তদারকি চালিয়েছে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। ঢাকা মহানগরসহ ৩০ জেলায় অধিদপ্তরের ৪৪টি দল পাইকারি ও খুচরা বাজারে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ ও প্রদান, সঠিক ওজন এবং নির্ধারিত মূল্যে পণ্য বিক্রির বিষয় যাচাই করা হয়। বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে মোট ১০২টি প্রতিষ্ঠানকে ১০ লাখ ৩১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
অধিদপ্তর জানিয়েছে, বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি, অযৌক্তিক মজুদ ও সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরি থেকে ব্যবসায়ীদের বিরত থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মূল্যতালিকা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন এবং সঠিক ওজন ও পরিমাপ নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফল ব্যবসায়ীদের ন্যায্য ও যৌক্তিক দামে পণ্য বিক্রি এবং পচা বা নষ্ট ফল ভালো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। ক্ষতিকর রাসায়নিক বা অননুমোদিত পদার্থ ব্যবহার থেকেও বিরত থাকতে বলা হয়েছে।
ভোক্তাদের পণ্য কেনার আগে মূল্যতালিকা যাচাই, সঠিক ওজন নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য, উৎপাদন ও মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ দেখে কেনার পরামর্শ দিয়েছে অধিদপ্তর। এলপি গ্যাস কেনার সময় সিলিন্ডারের ওজন, সিল ও দৃশ্যমান ত্রুটি পরীক্ষা এবং রশিদ বা ভাউচার সংগ্রহ করতেও বলা হয়েছে।
কোনো অনিয়ম বা প্রতারণার শিকার হলে ভোক্তাদের ১৬১২১ নম্বরে অভিযোগ জানানোর অনুরোধ জানিয়েছে অধিদপ্তর। বাজারে শৃঙ্খলা ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে এ ধরনের তদারকি অব্যাহত থাকবে বলেও জানিয়েছে সংস্থাটি।


