কুষ্টিয়া প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালীর ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলা এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে মাজার প্রাঙ্গণে কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। রাত ৮টার দিকে পুলিশ ও স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীদের সহায়তায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেন। পরে তিনি অভিযোগ দিতে কুমারখালী থানার উদ্দেশে রওনা হন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপি সূত্র জানায়, ব্যক্তিগত সফরের অংশ হিসেবে রোববার কুষ্টিয়ায় যান নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। প্রথমে তিনি কুমারখালীর শিলাইদহে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ি পরিদর্শন করেন। পরে সন্ধ্যায় ছেঁউড়িয়ায় লালন শাহের মাজারে যান।
মাজার পরিদর্শন শেষে তিনি স্থানীয় শিল্পীদের গান শুনছিলেন এবং ফেসবুকে লাইভ করছিলেন। এ সময় তার ওপর হামলা এবং গাড়ি ভাঙচুর করা হয় বলে দলীয় সূত্রের দাবি।
এনসিপির একটি সূত্র ও কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শীর দাবি, কুষ্টিয়া পৌর ছাত্রদলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংগ্রাম নামে এক ব্যক্তি হামলা ও ভাঙচুরে নেতৃত্ব দেন।
তবে কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোজাক্কির রাব্বি বলেন, ছাত্রদল ‘মব রাজনীতিতে বিশ্বাস করে না’। কোনো নেতা বা কর্মী হামলায় জড়িত থাকলে এর দায় তাকেই বহন করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা আহ্বায়ক জান্নাতুল ফেরদৌস টনিসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা ঘটনার সময় পাটওয়ারীর সঙ্গে ছিলেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে।
এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, বিএনপির নেতাকর্মীরা পাটওয়ারীর ওপর হামলা করেছেন।
কুমারখালী থানার ওসি জামাল উদ্দিন বলেন, পাটওয়ারী লালন শাহের মাজারে এসেছেন এবং তার সঙ্গে ‘কিছু একটা হয়েছে’ বলে তিনি শুনেছেন। বিস্তারিত জানতে তিনি ঘটনাস্থলে যাচ্ছেন বলেও জানান।
এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে কয়েকজনকে পাটওয়ারী ও তার সঙ্গে থাকা ব্যক্তিদের ধাওয়া করে ‘ধর, ধর’ বলতে দেখা যায়। তবে ভিডিওটির সত্যতা এবং এতে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার বিষয়ে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর বক্তব্য জানতে স্থানীয় সাংবাদিকরা চেষ্টা করলেও তিনি হামলা নিয়ে কথা বলতে রাজি হননি।


