Homeবিবিধঅপরাধকিশোরীর মৃত্যুর পর মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

কিশোরীর মৃত্যুর পর মতিঝিলের ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভাঙচুর

নিজস্ব প্রতিনিধি:

রাজধানীর মতিঝিল ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোরীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ভাঙচুর ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। স্বজনদের অভিযোগ, অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার পর মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলেও সময়মতো অস্ত্রোপচার না করায় তার মৃত্যু হয়েছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি, হাসপাতালে আনার সময়ই তার অবস্থা গুরুতর ছিল।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় প্রচণ্ড পেটব্যথা নিয়ে মাহিমাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। জরুরি বিভাগের চিকিৎসকের পরামর্শে আলট্রাসনোগ্রাফি করা হলে অ্যাপেনডিক্স ফেটে যাওয়ার বিষয়টি ধরা পড়ে। পরে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অপারেশন থিয়েটারে নেওয়ার আগেই শনিবার সকালে তার মৃত্যু হয়।

হাসপাতালের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, রোগীর মৃত্যুর পর স্বজনরা লাশ নিয়ে গাজীপুরে চলে যান এবং রাতে দাফন সম্পন্ন করেন। পরে রাত ১০টার দিকে শাহজানপুর ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের পরিচয় দিয়ে শাহরিয়ার সবুজ নামে এক ব্যক্তি হাসপাতালে এসে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে ১০ লাখ টাকা দাবি করেন।

তার দাবি, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে আইনি প্রক্রিয়ায় যাওয়ার পরামর্শ দেয়। সোমবার দুপুরে এ বিষয়ে আলোচনায় বসার কথা থাকলেও স্বজনরা সেখানে আসেননি। পরে বিকেলে প্রায় ১০০ লোক নিয়ে তারা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে অবস্থান নেন এবং রোগীদের ভয়ভীতি দেখান।

আবুল কালাম আজাদ বলেন, তাদের গেট থেকে কিছুটা দূরে অবস্থান করতে বললে তাকে কলার ধরে মারধর করা হয়। পরে দ্বিতীয় তলায় উঠে লেবার রুমে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘটনায় হাসপাতালের ১০ কর্মকর্তা-কর্মচারী আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।

তবে ১০ লাখ টাকা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শাহরিয়ার সবুজ। তিনি বলেন, মাহিমা তার চাচাতো বোন। প্রথমে তাকে প্যান প্যাসিফিক হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে অবস্থা গুরুতর হওয়ায় দ্রুত ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে নেওয়া হয়।

শাহরিয়ার সবুজের দাবি, শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মাহিমাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকরা অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি নিলেও রাতে অস্ত্রোপচার করা হয়নি। পরদিন সকালে তার মৃত্যু হয়।

তিনি বলেন, ‘আমরা ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাইতে গেলে হাসপাতালের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে।’

টাকা দাবির অভিযোগ প্রসঙ্গে শাহরিয়ার বলেন, তিনি কোনো টাকা চাননি; বরং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষই টাকা দিয়ে বিষয়টি মীমাংসার প্রস্তাব দিয়েছিল। তবে তারা তাতে রাজি হননি।

ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা আরেক রোগীর স্বজন তৌফিক মেজবাহ বলেন, অ্যাপেনডিক্সের সমস্যা নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই রোগীর মৃত্যুর পর তার বাবা-মা লাশ নিয়ে চলে যান। পরে রাতে একদল লোক এসে টাকা দাবি করে বলে তিনি দেখতে পেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, সোমবার সন্ধ্যার পর আবারও একটি দল হাসপাতালে এসে কয়েকজনকে মারধর করে এবং ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে হাসপাতালের স্টাফরা তাদের ধাওয়া দেন।

মাহিমার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা নথি ও ঘটনার তদন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ওপর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগও তদন্তের দাবি রাখে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments