Homeঅর্থনীতিবিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে ৮০০ টাকায় আনারকলির বাগান

বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ভেঙে ৮০০ টাকায় আনারকলির বাগান

তিনটি চারা থেকে এখন গাছে গাছে ফল, কেজি ৬৫০-৭০০ টাকা

টাঙ্গাইল প্রতিনিধি:

বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা, দালালের পেছনে অর্থ খরচ এবং চাকরির অনিশ্চয়তা, সব মিলিয়ে একসময় হতাশ হয়ে পড়েছিলেন টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরের তরুণ সোহেল আকন্দ। শেষ পর্যন্ত অন্যের চাকরির পেছনে না ছুটে নিজেই কিছু করার সিদ্ধান্ত নেন। মাত্র ৮০০ টাকা দিয়ে শুরু করেন বিদেশি ফল প্যাশন ফ্রুটের চাষ। স্থানীয়ভাবে পরিচিত ‘আনারকলি’ ফলের সেই ছোট উদ্যোগই এখন তাকে নতুন স্বপ্ন দেখাচ্ছে।

ভূঞাপুর পৌর শহরের বামনহাটা গ্রামের মৃত আবুল কালাম আকন্দের ছেলে সোহেল প্রায় ছয় মাস আগে কক্সবাজারের চকরিয়ার এক চাষির কাছ থেকে কয়েকটি আনারকলি গাছের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির পরিত্যক্ত জায়গায় শুরু করেন পরীক্ষামূলক চাষ।

শুরুর পথটা অবশ্য সহজ ছিল না। আনারকলি গাছে ফুল এলেও তা ঝরে পড়ত। ফলন পাওয়ার উপায় জানা ছিল না। পরে বিভিন্নজনের সঙ্গে পরামর্শ করে গাছের পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় যত্ন নেওয়া শুরু করেন তিনি। এখন সেই গাছেই থোকায় থোকায় ফল ধরেছে।

সোহেল জানান, এপ্রিল মাসে তিনটি আনারকলি চারা রোপণ করেন। জুলাই থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। বর্তমানে ফেসবুকের মাধ্যমে পরিচিতদের কাছে ফল বিক্রি করছেন। অনেকে তার বাড়িতে এসেও ফল কিনছেন।

আকারভেদে প্রতিটি ফল ৩০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। এক কেজিতে সাধারণত ১০ থেকে ১২টি ফল পাওয়া যায় এবং প্রতি কেজি ৬৫০ থেকে ৭০০ টাকা দরে বিক্রি করতে পারছেন তিনি।

কক্সবাজারে গিয়ে প্রথম আনারকলি খেয়েছিলেন সোহেল। ফলটির স্বাদ ভালো লাগায় নিজের এলাকায় এটি চাষের চিন্তা আসে তার মাথায়। পরে ভালো জাতের চারা সংগ্রহের জন্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেন। বিশ্বস্ত একটি নার্সারি থেকে চারা নিয়ে শুরু করেন চাষ।

সোহেল বলেন, বিদেশে যাওয়ার আশায় এবং চাকরির পেছনে ছুটতে গিয়ে দালালের মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এরপর নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চিন্তা থেকেই কৃষিকে বেছে নেন।

শুধু আনারকলি নয়, বাড়ির উঠানে একটি ছোট নার্সারিও গড়ে তুলেছেন তিনি। সেখানে বিভিন্ন ফলজ ও বনজ গাছের চারা রয়েছে। ভবিষ্যতে আনারকলির চাষ আরও বড় পরিসরে করার পাশাপাশি চারা উৎপাদনের পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

স্থানীয়দের কাছেও সোহেলের উদ্যোগটি নতুন। আব্দুল লতিফ বলেন, ভূঞাপুরে আগে এভাবে আনারকলি চাষ তিনি দেখেননি। অল্প পরিসরে চাষ করেও সোহেলের গাছে ভালো ফলন এসেছে এবং স্থানীয়ভাবে ফলটির চাহিদাও তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতা পেলে সোহেল আরও বড় পরিসরে কাজ করতে পারবেন বলে মনে করেন তিনি।

আরেক স্থানীয় বাসিন্দা আখতার হোসেন বলেন, তাদের এলাকায় ফলটি নতুন। সোহেলের বাগানে এসে প্রথমবার ফলটি দেখেছেন ও খেয়েছেন। তার মতে, সোহেলের উদ্যোগ অন্য তরুণদেরও কৃষিতে আগ্রহী করতে পারে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মোখলেছুর রহমান জানান, বামনহাটা গ্রামের সোহেল নিজ বাড়ির উঠানে প্রায় অর্ধশতক জায়গায় প্যাশন ফ্রুট বা আনারকলির বাগান করেছেন। কৃষি অফিসের কর্মকর্তারা বাগানটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ভবিষ্যতে বাগান সম্প্রসারণে প্রয়োজনীয় কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাসও দেওয়া হয়েছে।

মাত্র কয়েকটি চারা দিয়ে শুরু করা সোহেলের উদ্যোগ এখনো ছোট। তবে সেই ছোট বাগানেই তিনি খুঁজে পেয়েছেন নিজের ভবিষ্যতের পথ। চাকরি কিংবা বিদেশ যাওয়ার পেছনে ছুটে নয়, নিজের মাটিতেই দাঁড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন এই তরুণ কৃষি উদ্যোক্তা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments