তানভীর রায়হান:
অটোরিকশা ধর্মঘটকে ঘিরে রাজধানীতে যানসংকটের আশঙ্কা থাকলেও বাস্তবে তার বড় কোনো প্রভাব পড়েনি। বরং সড়কে অটোরিকশার সংখ্যা কম থাকায় কিছু এলাকায় যানবাহনের চাপ ও বিশৃঙ্খলা তুলনামূলক কম দেখা গেছে। এতে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন নগরবাসীর অনেকে।
ধর্মঘটের আগে অটোরিকশা না চলায় অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। বিশেষ করে স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতে অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল মানুষ বিকল্প যানবাহন সংকটে পড়তে পারেন, এমন আশঙ্কাও ছিল। তবে রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে গণপরিবহন চলাচল স্বাভাবিক থাকায় বড় ধরনের যানসংকট তৈরি হয়নি।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, অন্যান্য দিনের তুলনায় অটোরিকশার উপস্থিতি কম। ফলে অনেক সড়কে ছোট যানবাহনের এলোমেলো চলাচলও কম ছিল। কোথাও কোথাও বাস ও অন্যান্য গণপরিবহনের চাপ কিছুটা বাড়লেও তা সামগ্রিক যান চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি করেনি।
নগরবাসীর একটি অংশ বলছেন, অটোরিকশার সংখ্যা কম থাকায় সড়কে শৃঙ্খলা কিছুটা বেড়েছে। বিশেষ করে যেখানে অটোরিকশা দাঁড়িয়ে যাত্রী ওঠানো-নামানো কিংবা হঠাৎ লেন পরিবর্তনের কারণে যান চলাচলে ধীরগতি তৈরি হয়, ধর্মঘটের কারণে সেসব জায়গায় সেই চাপ কম দেখা গেছে।
তবে অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক ছিল না। অনেককে বিকল্প যানবাহনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। কেউ কেউ বেশি ভাড়া দিয়ে রিকশা, বাস বা অন্য পরিবহনে গন্তব্যে পৌঁছেছেন।
ধর্মঘটকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাইকিংয়ের মাধ্যমে কর্মসূচির কথা জানানো হয়। এতে আগাম যানজট ও সড়ক অবরোধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের সড়ক অবরোধ বা ব্যাপক যানজটের খবর পাওয়া যায়নি।
রাজধানীর সড়ক ব্যবস্থায় অটোরিকশার ভূমিকা দ্বিমুখী। একদিকে এটি স্বল্প দূরত্বের যাত্রীদের জন্য সহজলভ্য ও গুরুত্বপূর্ণ পরিবহন; অন্যদিকে যত্রতত্র থামানো, যাত্রী ওঠানো-নামানো এবং একই সড়কে বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের সঙ্গে প্রতিযোগিতামূলক চলাচল অনেক সময় যানজট বাড়ায়।
ধর্মঘটের দিনে অটোরিকশার সংখ্যা কমে যাওয়ায় সেই চাপের একটি অংশও কমেছে। ফলে যেসব সড়কে সাধারণত ছোট যানবাহনের ঘনত্ব বেশি থাকে, সেখানে তুলনামূলক ফাঁকা পরিবেশ দেখা গেছে।
তবে এই পরিস্থিতিকে অটোরিকশা না থাকার স্থায়ী সমাধান হিসেবে দেখছেন না নগর পরিবহনসংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, একটি পরিবহন বন্ধ থাকলে সাময়িকভাবে কোনো কোনো সড়কে চাপ কমতে পারে; কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে গণপরিবহন ব্যবস্থার সমন্বিত পরিকল্পনা ছাড়া রাজধানীর যানজট ও যাত্রীভোগান্তির সমাধান সম্ভব নয়।
অটোরিকশা ধর্মঘট রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার একটি পুরোনো প্রশ্ন আবার সামনে এনেছে—নগরীর সড়কে কোন ধরনের যান কোথায় এবং কীভাবে চলবে, তার কার্যকর নিয়ন্ত্রণ কতটা রয়েছে?
নগরবাসীর একাংশ বলছেন, অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচল ও পার্কিং নিয়ন্ত্রণ করা গেলে একদিকে যাত্রীদের জন্য এই পরিবহন ব্যবস্থা আরও কার্যকর হতে পারে, অন্যদিকে সড়কে শৃঙ্খলাও বাড়তে পারে।
তবে ধর্মঘট দীর্ঘায়িত হলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। অটোরিকশার ওপর নির্ভরশীল এলাকাগুলোতে তখন যাত্রীদের ভোগান্তি বাড়ার পাশাপাশি বিকল্প গণপরিবহনে চাপও তৈরি হতে পারে।
এ কারণে সাময়িক স্বস্তির এই চিত্রকে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থার স্থায়ী সমাধান হিসেবে না দেখে, সড়কে শৃঙ্খলা ও গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজনীয়তা হিসেবে দেখছেন নগরবাসী।
অটোরিকশা ধর্মঘটের কারণে একদিকে কিছু যাত্রীর ভোগান্তি বাড়লেও অন্যদিকে সড়কে ছোট যানবাহনের চাপ কমে স্বস্তির যে চিত্র দেখা গেছে, তা রাজধানীর যানব্যবস্থাপনার বিদ্যমান দুর্বলতাগুলোও নতুন করে সামনে এনেছে।


