নিজস্ব প্রতিনিধি:
বৃষ্টিপাত কমে আসার সঙ্গে সঙ্গে আবারও বাড়ছে রাজধানীর বায়ুদূষণ। সোমবার সকালে বিশ্বের ১২৫ শহরের মধ্যে বায়ুদূষণের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে উঠে এসেছে ঢাকা। সকাল ৯টায় ঢাকার এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ১৭৯, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ হিসেবে বিবেচিত।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের তাৎক্ষণিক সূচকে এ তথ্য উঠে আসে।
সকাল ৯টার তালিকায় ২৭০ AQI নিয়ে সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল ভারতের দিল্লি। ১৭৯ স্কোর নিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে ঢাকা। ১৭০ স্কোর নিয়ে তৃতীয় অবস্থানে ছিল পাকিস্তানের লাহোর। দিল্লির বাতাস ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ঢাকা ও লাহোরের বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে ছিল।
আইকিউএয়ারের পরামর্শ অনুযায়ী, এমন পরিস্থিতিতে বাইরে অবস্থানের সময় সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে জানালা বন্ধ রাখা এবং বাইরে বের হলে মাস্ক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার সকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়ও তুলনামূলক বেশি দূষণ রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে শহীদ সাহাবুদ্দিন রোডের বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এলাকায় AQI ছিল ১৮৮। পুরান ঢাকার বেচারাম দেউড়ি ও গুলশান লেক পার্ক এলাকায় ছিল ১৮৬ করে।
উত্তর বাড্ডার আবদুল্লাহবাগ এলাকায় AQI ১৮৩, বারিধারা পার্ক রোডে ১৮২, মিরপুরের সাগুপ্তায় ১৭৭ এবং মাদানী অ্যাভিনিউয়ের বে’জ এইজ ওয়াটার আউটডোর এলাকায় ১৭৪ রেকর্ড করা হয়।
এ ছাড়া মিরপুরের দক্ষিণ পল্লবীতে ১৭৩, গ্রেস ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এলাকায় ১৬৫ এবং গুলশান-২ এলাকাতেও দূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্য ছিল।
AQI শূন্য থেকে ৫০ হলে বাতাসকে ‘ভালো’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। ৫১ থেকে ১০০ ‘মাঝারি’, ১০১ থেকে ১৫০ সংবেদনশীল ব্যক্তিদের জন্য ‘অস্বাস্থ্যকর’ এবং ১৫১ থেকে ২০০ হলে বাতাস ‘অস্বাস্থ্যকর’ পর্যায়ে থাকে।
AQI ২০১ থেকে ৩০০ হলে তা ‘খুব অস্বাস্থ্যকর’ এবং ৩০১ থেকে ৪০০ হলে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের বাড়ির বাইরে কার্যক্রম সীমিত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত কমে গেলে বাতাসে দূষিত কণার ঘনত্ব বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়। ফলে রাজধানীর বাসিন্দাদের জন্য বায়ুমানের অবনতি নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।


