চুনারুঘাট (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি:
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় গত ১২ দিনে বিভিন্ন অভিযোগের পর চার পুলিশ সদস্যকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন একজন উপপরিদর্শক (এসআই), দুজন সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ও একজন কনস্টেবল।
সর্বশেষ মঙ্গলবার ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে এএসআই অতনু বণিককে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়। এর আগের দিন এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকেও প্রত্যাহার করা হয়।
পুলিশ সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৫ সেপ্টেম্বর থেকে ৬ অক্টোবরের মধ্যে এসব ঘটনা ঘটে।
মঙ্গলবার এএসআই অতনু বণিককে প্রত্যাহারের পেছনে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক ব্যক্তিকে মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার কথা বলে ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। পরে অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
তবে ভিডিওতে যে অভিযোগ উঠে এসেছে, তার সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার বিষয়টি এখনও প্রক্রিয়াধীন।
এর একদিন আগে, সোমবার, এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসাইনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে প্রত্যাহার করা হয়।
ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি পোশাক লাগিয়েছি ঘুষের টাকা দিয়ে, ঘুষ খাওয়ার জন্যই।’
জানা গেছে, সম্প্রতি একটি মামলার তদন্তের কাজে চুনারুঘাট উপজেলার রানীগাঁও বাজারে যাওয়ার পর ওই বক্তব্য দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় এক ব্যক্তি মোবাইল ফোনে তার বক্তব্য ধারণ করেন। পরে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
ভিডিওটির বক্তব্য কোন প্রেক্ষাপটে এবং কী উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল, সে বিষয়টিও তদন্তের আওতায় রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এর আগে ২৫ সেপ্টেম্বর ইয়াবা দিয়ে একই পরিবারের তিন সদস্যকে ফাঁসানোর চেষ্টার অভিযোগে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, উপজেলার কালিশিরী গ্রামের ছায়েদ মিয়া (৫০), তার মেয়ে জাসমিন আক্তার (২৪) ও ছোট ভাই ইউনুস মিয়া (৪৫)-এর সঙ্গে প্রতিবেশীদের বাড়িতে যাতায়াতের রাস্তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ বিরোধের জেরে গত ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের ইয়াবা দিয়ে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের নজরে এলে অভিযোগটি তদন্তের আওতায় নেওয়া হয়। একই সঙ্গে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে এসআই মাসুম আল-মামুন ও কনস্টেবল রহুল আমীনকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. রাফিউর রহমান বলেন, তদন্তের স্বার্থেই সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
একটি থানার চার সদস্যকে মাত্র ১২ দিনের ব্যবধানে বিভিন্ন অভিযোগের পর প্রত্যাহারের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, মামলায় ফাঁসানোর চেষ্টা এবং পুলিশ সদস্যদের বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়গুলো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তবে সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর কোনোটি এখনো তদন্তের মাধ্যমে চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ফলে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে এসব অভিযোগকে প্রতিষ্ঠিত ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। তদন্তের ফলের ওপরই পরবর্তী প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থা নির্ভর করছে।


