Homeঅর্থনীতিপ্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশ আসছে পাঁচ দেশ থেকে, শীর্ষে সৌদি আরব

প্রবাসী আয়ের ৬০ শতাংশ আসছে পাঁচ দেশ থেকে, শীর্ষে সৌদি আরব

নিজস্ব প্রতিনিধি:

বাংলাদেশে আসা প্রবাসী আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশই আসছে পাঁচটি দেশ থেকে। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, যুক্তরাষ্ট্র ও মালয়েশিয়া থেকে দেশে এসেছে ৫০৯ কোটি ডলার। একই সময়ে দেশে মোট প্রবাসী আয় এসেছে ৮৫৯ কোটি ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত অর্থবছরের একই সময়ে দেশে প্রবাসী আয় এসেছিল ৭৫৮ কোটি ডলার। সেই হিসাবে চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে রেমিট্যান্স বেড়েছে ১০১ কোটি ডলার বা ১৩ দশমিক ২৮ শতাংশ।

দেশভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি প্রবাসী আয় এসেছে সৌদি আরব থেকে। চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে দেশটি থেকে এসেছে ১৬৫ কোটি ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা যুক্তরাজ্য থেকে এসেছে ১২২ কোটি ডলার।

এ ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে ৭৭ কোটি ৭৬ লাখ, যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৭৭ কোটি ৪৮ লাখ এবং মালয়েশিয়া থেকে প্রায় ৬৭ কোটি ডলার এসেছে। এই পাঁচ দেশ থেকেই মোট প্রবাসী আয়ের বড় অংশ দেশে এসেছে।

রেমিট্যান্স প্রবাহে ঊর্ধ্বমুখী ধারা চলতি অক্টোবরেও অব্যাহত রয়েছে। মাসের প্রথম ১১ দিনে প্রবাসীরা দেশে পাঠিয়েছেন ১১৭ কোটি ডলার। গত বছরের একই সময়ে এর পরিমাণ ছিল ৯৯ কোটি ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে এ সময়ে প্রবাসী আয় বেড়েছে ১৮ শতাংশের বেশি।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈধ ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বৃদ্ধি এবং হুন্ডি প্রতিরোধে সরকারের পদক্ষেপ রেমিট্যান্স বাড়াতে ভূমিকা রাখছে। তবে প্রবৃদ্ধির পেছনে কোন কারণ কতটা কার্যকর, তা নির্ধারণে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রয়োজন।

প্রবাসী আয়ের এই প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। আমদানি ব্যয় পরিশোধসহ বৈদেশিক লেনদেনের প্রয়োজন মেটাতে রেমিট্যান্স অন্যতম উৎস হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ অক্টোবর দেশের মোট বা গ্রস বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ছিল ৩৬ দশমিক ২১ বিলিয়ন ডলার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩১ দশমিক ৪০ বিলিয়ন ডলার।

গত জুনে গ্রস রিজার্ভ বেড়ে ৩৭ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলারে উঠেছিল। সে সময় বিপিএম৬ পদ্ধতিতে রিজার্ভ ছিল ৩২ দশমিক ৯৩ বিলিয়ন ডলার।

এদিকে, চলতি অর্থবছরের প্রথম দুই মাসে দেশের আমদানি বেড়েছে ১২ দশমিক ২০ শতাংশ এবং রপ্তানি বেড়েছে ৮ দশমিক ৩৮ শতাংশ। আমদানি-রপ্তানির এই পরিস্থিতিতে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বজায় রাখতে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারাবাহিকতা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক হলেও এর স্থায়িত্ব নির্ভর করবে বৈধ পথে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা, আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে বাংলাদেশের কর্মীদের অবস্থান এবং সামগ্রিক বৈদেশিক লেনদেনের পরিস্থিতির ওপর।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments