বাগেরহাট প্রতিনিধি:
বাগেরহাট সদর উপজেলায় মোবাইল অপারেটরের এক বিক্রয়কর্মীকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নগদ টাকা ও সিমকার্ড ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার বিকেলে ষাটগম্বুজ ইউনিয়নের কাঠালতলা ফুটবল মাঠের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহত মো. আল আমিন ইসলাম (৩৫) বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশনের একজন খুচরা বিক্রয় কর্মকর্তা (আরএসও)। তিনি বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের গোলদার শেখের ছেলে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বাংলালিংকের আরেক বিক্রয়কর্মী শরিফুল ইসলাম জানান, আল আমিন সিঅ্যান্ডবি বাজার এলাকায় মার্কেটিংয়ের কাজ শেষ করে ব্যাংকে টাকা জমা দিতে শহরে ফিরছিলেন। পথে কাঠালতলা এলাকায় সবুজ রঙের একটি এফজেড মোটরসাইকেলে থাকা তিন ব্যক্তি তাঁর গতিরোধ করেন।
শরিফুলের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা চাইনিজ কুড়াল দিয়ে আল আমিনের ডান কাঁধে কোপ দেন। তিনি মাটিতে পড়ে গেলে তাঁর কাছে থাকা নগদ টাকা, সিমকার্ড ও ব্যাগ নিয়ে পালিয়ে যান তাঁরা। পরে খবর পেয়ে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের এক ব্যবস্থাপক জানান, আল আমিনের কাছে রিচার্জ বিক্রির টাকা ছিল। তবে ছিনতাই হওয়া টাকার সঠিক পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
তিনি আরও বলেন, বাগেরহাটে বিক্রয়কর্মীদের কাছ থেকে ছিনতাইয়ের ঘটনা এটিই প্রথম নয়। গত দেড় মাসে বিকাশকর্মী, ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের এজেন্ট ব্যাংকিং কর্মীসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন বলে তিনি দাবি করেন। এসব ঘটনা প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও সক্রিয় ভূমিকা চান তিনি।
বাগেরহাট ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. শেখ সোহেলুর রহমান বলেন, আল আমিনের কাঁধে ধারালো অস্ত্রের আঘাত রয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত রয়েছেন।
বাগেরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুল আরেফিন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। তবে এ ঘটনায় বাংলালিংক ডিস্ট্রিবিউশন হাউসের পক্ষ থেকে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর বাগেরহাট সদর উপজেলার বেমরতা ইউনিয়নের ভদ্রপাড়া গ্রামের হেরেমের মোড় এলাকায় অস্ত্রের মুখে এক বিকাশকর্মীর কাছ থেকে দুই লাখ টাকার বেশি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া গত দুই মাসে চিতলমারীসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অন্তত ১০টি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।



