নিজস্ব প্রতিনিধি:
চাঁদাবাজি, দখল ও সন্ত্রাসের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরদার করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী, মাদক ব্যবসায়ী ও চাঁদাবাজদের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এসব তালিকা নিয়মিত হালনাগাদ করা হয়।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে শারদীয় দুর্গাপূজার নিরাপত্তা নিয়ে আয়োজিত বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
দেশের বিভিন্ন স্থানে জমি ও বাড়ি দখল, হামলা এবং চাঁদাবাজির ঘটনায় ৩৮ জন বিশিষ্ট নাগরিকের দেওয়া সাম্প্রতিক বিবৃতির বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধীদের তালিকা করা পুলিশের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ। অপরাধের ধরন ও পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এসব তথ্য সংরক্ষণ ও হালনাগাদ করা হয়।
তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী, অস্ত্রধারী ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে পুলিশের কাছে তথ্য রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি চলমান অভিযান ভবিষ্যতে আরও জোরদার করা হবে।
রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত হলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, অপরাধীর রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করে আইন প্রয়োগ করা হচ্ছে না। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কোনো অভিযোগ আসার পর পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যাচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী মামলা ও গ্রেপ্তারের মতো আইনগত পদক্ষেপও নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজ ও তাদের সহযোগীদের বিষয়ে পুলিশের তথ্য আগে থেকেই রয়েছে। তাই নতুন করে কোনো পৃথক তালিকা তৈরির বিষয় নয়; বরং বিদ্যমান তথ্য নিয়মিত পর্যালোচনা ও হালনাগাদ করা হচ্ছে।
সাম্প্রতিক বিভিন্ন ঘটনার কারণে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া উদ্বেগের বিষয়ে তিনি বলেন, একটি বা দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনার ভিত্তিতে পুরো দেশের পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা ঠিক হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মিরপুরে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ এবং পুলিশ ও সিটি করপোরেশনের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে সংশ্লিষ্ট ম্যাজিস্ট্রেট, রাজউক বা সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পুলিশের সমন্বয়ের ঘাটতি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত কারণ নিশ্চিতভাবে বলা যাবে না।
আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে নিরাপত্তা প্রস্তুতি তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছর দেশের প্রায় ৩৩ হাজার ৮০০ পূজামণ্ডপে বিশেষ নিরাপত্তাব্যবস্থা থাকবে। পুলিশ সদর দপ্তর থেকে শুরু করে জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে ২৪ ঘণ্টা নজরদারি চালানো হবে।
পূজামণ্ডপগুলোর স্বেচ্ছাসেবকদের নাম ও মোবাইল নম্বর সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তাদের পরিচয়পত্রও দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
কোনো পূজামণ্ডপে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের জন্য জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের একটি অ্যাপ ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, পূজামণ্ডপগুলোতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি জরুরি পরিস্থিতির জন্য জেনারেটর ও চার্জার লাইট প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত কোনো পূজামণ্ডপকে বিশেষ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়নি বলেও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।


