নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান মিল্টন অভিযোগ করেছেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে। ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবির পক্ষে এক রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এ অভিযোগ করেন।
তবে এ অভিযোগকে মিথ্যা আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ প্রকাশ করতে অথবা বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশ করতে ডিএনসিসি প্রশাসকের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর মিরপুর-১০ এলাকায় মেট্রোরেলের পিলারে জুলাই আন্দোলনের গ্রাফিতি পুনর্নির্মাণ কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মিল্টন এ অভিযোগ করেন।
ঢাকার সড়কে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চলাচলের অনুমতি দেওয়ার দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর দাবি, একটি বড় রাজনৈতিক দলের সেক্রেটারি জেনারেল অটোরিকশা চালকদের দাবি মেনে নেওয়ার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অথচ খোঁজ নিয়ে তিনি জানতে পেরেছেন, ওই নেতার নিজেরই ৭০০টি অটোরিকশা রয়েছে।
তবে বক্তব্যের পক্ষে কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ সাংবাদিকদের সামনে উপস্থাপন করেননি ডিএনসিসি প্রশাসক।
এ সময় তিনি রাজধানীর ফুটপাত দখলমুক্ত করার উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। দোকানের সামনে ও ফুটপাতে অবৈধ দখল ঠেকাতে ব্যবসায়ীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত ফুটপাত সংস্কার, সবুজায়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ চলছে বলেও জানান।
মিল্টন আরও অভিযোগ করেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল ফুটপাতের হকারদের উসকানিমূলক পরামর্শ দিচ্ছে। জনস্বার্থবিরোধী কোনো তৎপরতা চালানো হলে নগরবাসীকে সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করার হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
অন্যদিকে শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডিএনসিসি প্রশাসকের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ থেকে প্রতীয়মান হয়, মিল্টনের বক্তব্যে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। এ ধরনের কাল্পনিক, অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট অভিযোগের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে দলটি।
জুবায়ের বলেন, একজন দায়িত্বশীল সরকারি কর্মকর্তার কাছ থেকে জনগণ তথ্যনির্ভর, দায়িত্বশীল ও শালীন বক্তব্য প্রত্যাশা করে। কোনো রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতার ব্যক্তিগত মালিকানায় ৭০০টি অটোরিকশা থাকার মতো গুরুতর অভিযোগ তোলার আগে সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য প্রমাণ উপস্থাপন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, অটোরিকশা চলাচল, যানজট নিরসন, সড়কে শৃঙ্খলা এবং চালকদের জীবিকার বিষয়গুলো জনস্বার্থ ও বাস্তবতার আলোকে বিবেচনা করা উচিত। কোনো রাজনৈতিক দলের অবস্থানের বিরোধিতা করতে হলে যুক্তি, তথ্য ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপের মাধ্যমে তা করা প্রয়োজন, প্রমাণহীন ব্যক্তিগত অভিযোগের মাধ্যমে নয়।
জুবায়ের ডিএনসিসি প্রশাসককে অভিযোগের পক্ষে যাচাইযোগ্য প্রমাণ জনসমক্ষে উপস্থাপনের আহ্বান জানান। প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হলে বক্তব্য প্রত্যাহার করে প্রকাশ্যে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসকের অভিযোগের পক্ষে প্রকাশ্যে কোনো প্রমাণ উপস্থাপনের তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী অভিযোগটি প্রত্যাখ্যান করেছে। ফলে ৭০০ অটোরিকশার মালিকানা নিয়ে করা দাবিটি এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।


