Homeলাইফস্টাইলআর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়াতে পারে যেসব খাবার

আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়াতে পারে যেসব খাবার

স্বাস্থ্য ডেস্ক:

প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস শরীরের সুস্থতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু খাবার প্রদাহ বা ব্যথার সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীদের খাবার নির্বাচনে সচেতন হওয়া জরুরি।

আর্থ্রাইটিস মূলত জয়েন্ট বা অস্থিসন্ধির প্রদাহজনিত সমস্যা। এর ধরন ও তীব্রতা অনুযায়ী উপসর্গ ভিন্ন হতে পারে। কিছু খাবার সবার ক্ষেত্রে একইভাবে প্রভাব না ফেললেও নির্দিষ্ট কিছু খাবার সীমিত রাখলে অনেকের উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা হতে পারে।

ভাজা ও প্রক্রিয়াজাত খাবার

ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবারে সাধারণত অস্বাস্থ্যকর চর্বি, লবণ ও ক্যালরির পরিমাণ বেশি থাকে। নিয়মিত এসব খাবার খেলে শরীরের ওজন ও প্রদাহজনিত সমস্যা বাড়তে পারে। অতিরিক্ত ওজন জয়েন্টের ওপর চাপ সৃষ্টি করে আর্থ্রাইটিসের ব্যথা বাড়াতে পারে। তাই এ ধরনের খাবার কম খাওয়াই ভালো।

চিনি ও পরিশোধিত শর্করা

মিষ্টি খাবার, কোমল পানীয়, কেক, বিস্কুট এবং পরিশোধিত শর্করাজাতীয় খাবার অতিরিক্ত খেলে ওজন বৃদ্ধি ও বিপাকীয় সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এসব খাবার শরীরে প্রদাহের মাত্রা বাড়ানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত। তাই চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট গ্রহণ সীমিত রাখা উচিত।

দুগ্ধজাত খাবার

দুধ, পনির ও অন্যান্য দুগ্ধজাত খাবার অধিকাংশ মানুষের জন্য পুষ্টিকর। তবে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণের পর অস্বস্তি বা উপসর্গ বাড়তে পারে। তাই ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে খাবার নির্বাচন করা প্রয়োজন। দুগ্ধজাত খাবার বাদ দিলে প্রোটিন ও ক্যালসিয়ামের বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে হবে। ডাল, বাদাম ও শাকসবজি খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।

অতিরিক্ত লবণ

অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ উচ্চ রক্তচাপসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। কিছু গবেষণায় বেশি লবণ গ্রহণের সঙ্গে প্রদাহজনিত সমস্যার সম্পর্কের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। আর্থ্রাইটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের তাই অতিরিক্ত লবণ, প্রক্রিয়াজাত খাবার ও প্যাকেটজাত স্ন্যাকস এড়িয়ে চলা ভালো।

অ্যালকোহল

অ্যালকোহল বিশেষ করে গাউট বা ইউরিক অ্যাসিডজনিত আর্থ্রাইটিসের সমস্যা বাড়াতে পারে। এটি রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়ানো এবং গাউটের আক্রমণের ঝুঁকি তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে। তাই গাউটে আক্রান্ত ব্যক্তিদের অ্যালকোহল গ্রহণ এড়িয়ে চলা বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সীমিত করা উচিত।

খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা জরুরি

আর্থ্রাইটিস নিয়ন্ত্রণে শুধু খাবার বাদ দেওয়াই যথেষ্ট নয়। সুষম খাদ্য গ্রহণ, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত উপযুক্ত ব্যায়াম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলাও গুরুত্বপূর্ণ। কোনো খাবার সবার ক্ষেত্রে একই প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে না। তাই নিজের উপসর্গ ও শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় খাদ্যতালিকা পরিবর্তনের আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments