তানভীর রায়হান
একটি শিশুর মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের স্বপ্ন ভেঙে দেয় না; কখনো কখনো তা রাষ্ট্রের প্রস্তুতি, প্রশাসনিক দক্ষতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধেরও কঠিন পরীক্ষা হয়ে দাঁড়ায়। হামে আক্রান্ত হয়ে, ডেঙ্গুর জটিলতায় কিংবা বাড়ির পাশের পুকুরে ডুবে যখন শিশুর প্রাণ যায়, তখন শোক প্রকাশের পাশাপাশি একটি প্রশ্নও সামনে আসে—যে বিপদ সম্পর্কে আগে থেকেই জানা ছিল, তা মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন?
সব শিশুমৃত্যু প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। কিন্তু টিকার ঘাটতি, মশাবাহিত রোগের বিস্তার কিংবা পানিতে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি, এসব ক্ষেত্রে কার্যকর পদক্ষেপ অনেক মৃত্যু ঠেকাতে পারে। তাই প্রতিটি মৃত্যুর পর শুধু হতাহতের সংখ্যা গণনা করাই যথেষ্ট নয়। দেখতে হবে, কী ধরনের ঝুঁকি ছিল, প্রতিরোধের সুযোগ কতটা কাজে লাগানো হয়েছে এবং কোথায় ঘাটতি রয়ে গেছে।
শিশুর জীবন রক্ষার দায়িত্ব পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র, সবার। তবে জনস্বাস্থ্য, টিকাদান, নগর ব্যবস্থাপনা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এই দায়িত্ব পালনে ব্যর্থতা থাকলে তা শনাক্ত করা এবং সংশোধনের ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
হাম প্রতিরোধের কার্যকর টিকা রয়েছে। বাংলাদেশে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিও চালু আছে। তারপরও ২০২৬ সালে হামের প্রাদুর্ভাব টিকাদানের আওতা, টিকার সরবরাহ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রস্তুতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২৩ এপ্রিলের প্রতিবেদনে বলা হয়, ১৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশে ১৯ হাজার ১৬১টি সন্দেহভাজন সংক্রমণ এবং হাম-সম্পর্কিত ১৬৬টি সন্দেহভাজন মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। এর মধ্যে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হাম-সম্পর্কিত মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৩০। আক্রান্তদের ৭৯ শতাংশের বয়স পাঁচ বছরের নিচে ছিল। দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৮টিতে সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল।
অন্যদিকে, এক মিডিয়ার ১৫ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা ১ হাজার ১৭৭-তে পৌঁছেছে। এই পরিসংখ্যানের সময়কাল ও শ্রেণিবিন্যাস আলাদা করে যাচাই করা প্রয়োজন হলেও সামগ্রিক চিত্রটি জনস্বাস্থ্যের জন্য গভীর উদ্বেগের।
প্রশ্ন হলো, টিকা থাকা সত্ত্বেও এত শিশু সংক্রমণের ঝুঁকিতে পড়ল কেন?
এক মিডিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন বছরে প্রয়োজন ছিল ৩ কোটি ৮৭ লাখ ডোজ হাম-রুবেলার টিকা, অথচ কেনা হয়েছিল ২ কোটি ২৪ লাখ ৯০ হাজার ডোজ। অর্থাৎ প্রয়োজনের তুলনায় ক্রয় ছিল প্রায় ৪২ শতাংশ কম। নিয়মিত টিকাদানেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক শিশু বাদ পড়ে যাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে।
এই ঘাটতির পেছনে কী ধরনের পরিকল্পনাগত দুর্বলতা, ক্রয়সংক্রান্ত বিলম্ব, সরবরাহের সমস্যা কিংবা মাঠপর্যায়ের সীমাবদ্ধতা কাজ করেছে, তার পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রয়োজন। শুধু টিকার সংখ্যা প্রকাশ করলেই হবে না; কোন সিদ্ধান্ত কখন নেওয়া হয়েছিল, সম্ভাব্য ঘাটতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আগে থেকে জানত কি না এবং বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল কি না, এসব প্রশ্নের উত্তরও জনসমক্ষে আসা দরকার।
কারণ, টিকাদান কর্মসূচির সাফল্য শুধু কত ডোজ কেনা হয়েছে, তার ওপর নির্ভর করে না। টিকা সময়মতো সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ এবং বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করে তাদের কাছে পৌঁছানো, প্রতিটি ধাপই সমান গুরুত্বপূর্ণ।
ডেঙ্গু বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বাস্থ্যঝুঁকি নয়। বছরের পর বছর সংক্রমণ ও মৃত্যুর অভিজ্ঞতা থাকার পরও রোগটির বিস্তার নিয়ন্ত্রণে স্থায়ী সক্ষমতা গড়ে তোলা কতটা সম্ভব হয়েছে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যের বরাত দিয়ে দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ডেঙ্গুতে ১ হাজার ৭০৫ জন, ২০২৪ সালে ৫৭৫ জন এবং ২০২৫ সালে ৪১৩ জন মারা যান। ২০২৬ সালের ১৪ অক্টোবরের ড্যাশবোর্ডে এ বছরের মৃত্যুর সংখ্যা ৩২১ এবং হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ৫ হাজার ৩১৬ দেখানো হয়েছিল।
এই সংখ্যাগুলোকে কেবল মৌসুমি রোগের স্বাভাবিক ওঠানামা হিসেবে দেখলে সমস্যার গভীরতা বোঝা যাবে না। ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত নজরদারি, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা শনাক্ত করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং হাসপাতালের প্রস্তুতি—সবকিছুর সমন্বয় প্রয়োজন।
এখানে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। কোথায় মশার বিস্তার বেশি, কোন এলাকায় নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম দুর্বল, কোথায় রোগীর চাপ বাড়ছে এবং চিকিৎসার প্রস্তুতিতে কী ঘাটতি রয়েছে—এসব তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।
কোনো এলাকায় অভিযান চালানোর পর শুধু কতটি অভিযান হয়েছে, তার হিসাব দিয়ে সাফল্য বিচার করা যায় না। মশার প্রজননস্থল কতটা কমেছে, ঝুঁকি কতটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে কী ফল পাওয়া গেছে, তার মূল্যায়নও জরুরি।
ডেঙ্গুতে কোনো শিশুর মৃত্যু ঘটলেই তা সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তার অবহেলার প্রমাণ নয়। কিন্তু ধারাবাহিক মৃত্যুর পরিস্থিতিতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাই না করাও দায়িত্বশীলতার পরিচয় নয়। প্রয়োজন তথ্যভিত্তিক তদন্ত, প্রতিষ্ঠানভিত্তিক মূল্যায়ন এবং প্রমাণিত ব্যর্থতার ক্ষেত্রে জবাবদিহি।
বাংলাদেশে পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু এমন একটি সংকট, যা প্রায়ই বিচ্ছিন্ন দুর্ঘটনা হিসেবে আলোচিত হয়। অথচ ঝুঁকিপূর্ণ জলাশয়ের অবস্থান, শিশুর বয়স, তত্ত্বাবধানের সুযোগ এবং নিরাপত্তাব্যবস্থার সঙ্গে এ ধরনের মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০২৫ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশ স্বাস্থ্য ও আঘাত জরিপ ২০২৩-এ পানিতে ডুবে ১৮ হাজার ২৬৮ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ধরনের মৃত্যুর ৫৩ শতাংশ ছিল এক থেকে চার বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে এবং ৭৬ শতাংশ ঘটনা ঘটেছে পুকুরে।
এই তথ্য দেখায়, ছোট শিশুদের জন্য বাড়ির আশপাশের জলাশয় কতটা বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় পুকুর, ডোবা ও খালবিল বসতবাড়ির কাছাকাছি, সেখানে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু পারিবারিক সতর্কতার বিষয় নয়; স্থানীয় পরিবেশ ও সামাজিক সুরক্ষাব্যবস্থারও প্রশ্ন।
অভিভাবকের তত্ত্বাবধান গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু সব দায় পরিবারের ওপর চাপিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হবে না। নিরাপদ দিবাযত্নকেন্দ্র, কমিউনিটিভিত্তিক শিশু তত্ত্বাবধান, জলাশয়ের পাশে উপযুক্ত প্রতিবন্ধকতা এবং শিশুদের সাঁতার ও পানিতে টিকে থাকার দক্ষতা বাড়ানোর মতো উদ্যোগ প্রয়োজন।
এসব ব্যবস্থা কোন এলাকায় সবচেয়ে জরুরি, কোথায় সেগুলো চালু রয়েছে এবং কত শিশু তার সুবিধা পাচ্ছে—তার হিসাব থাকা দরকার। সচেতনতামূলক প্রচার গুরুত্বপূর্ণ হলেও তা যেন নিরাপত্তাব্যবস্থা গড়ে তোলার বিকল্প হয়ে না দাঁড়ায়।
শিশুমৃত্যুর তিনটি ক্ষেত্রের ঝুঁকি আলাদা। হামের ক্ষেত্রে টিকাদান ও সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে মশা নিয়ন্ত্রণ ও চিকিৎসা প্রস্তুতি, আর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নিরাপদ পরিবেশ ও তত্ত্বাবধান বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ফলে সব সমস্যার সমাধান একই পদ্ধতিতে সম্ভব নয়।
তবে তিনটি ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বিষয় রয়েছে: ঝুঁকি শনাক্ত করা, সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া এবং ব্যর্থতা ঘটলে তার কারণ অনুসন্ধান করা।
এ জন্য কয়েকটি পদক্ষেপ জরুরি।
প্রথমত, প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু নিয়ে নির্ভরযোগ্য ও নিয়মিত তথ্য প্রকাশ করতে হবে। বয়স, এলাকা, মৃত্যুর কারণ এবং সংশ্লিষ্ট ঝুঁকির তথ্য বিশ্লেষণ করা গেলে কোথায় দ্রুত ব্যবস্থা প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করা সহজ হবে।
দ্বিতীয়ত, টিকাদান কর্মসূচির টিকা ক্রয়, সরবরাহ, সংরক্ষণ ও প্রয়োগের প্রতিটি ধাপ মূল্যায়ন করতে হবে। কোনো ঘাটতি আগে থেকে শনাক্ত করা সম্ভব ছিল কি না এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাসময়ে ব্যবস্থা নিয়েছিল কি না, তা নিরপেক্ষভাবে পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তৃতীয়ত, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রমের ফল নিয়মিত মূল্যায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালের রোগী সামলানোর সক্ষমতা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসামগ্রী এবং দ্রুত রোগ শনাক্তকরণের ব্যবস্থাও পর্যালোচনায় রাখতে হবে।
চতুর্থত, পানিতে ডুবে শিশুমৃত্যু কমাতে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে স্থানীয় পর্যায়ে সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। দিবাযত্ন, কমিউনিটির অংশগ্রহণ এবং সাঁতার শেখানোর কর্মসূচি বাস্তবায়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান ও নির্দিষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা দরকার।
সবশেষে, বড় ধরনের প্রতিরোধযোগ্য মৃত্যুর ঘটনায় প্রয়োজন অনুযায়ী স্বাধীন পর্যালোচনা করতে হবে। আগে থেকে ঝুঁকির তথ্য ছিল কি না, কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, কোথায় ঘাটতি ছিল এবং ভবিষ্যতে তা ঠেকাতে কী পরিবর্তন আনা হবে, এসব প্রশ্নের উত্তর প্রকাশ করা উচিত। অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
একটি রাষ্ট্রের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো, বাজেট কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নয়। উন্নয়নের প্রকৃত মূল্যায়ন করতে হলে দেখতে হবে, সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকা মানুষগুলোর জীবন কতটা নিরাপদ হয়েছে। শিশুদের ক্ষেত্রে এই প্রশ্ন আরও গুরুত্বপূর্ণ, কারণ তারা নিজেদের অধিকার আদায়ে রাজনৈতিক বা সামাজিক চাপ তৈরি করতে পারে না।
জাতিসংঘের শিশু অধিকার সনদের ৬ অনুচ্ছেদে শিশুর জীবনধারণ, বেঁচে থাকা ও বিকাশের অধিকার এবং ২৪ অনুচ্ছেদে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকারের স্বীকৃতি রয়েছে। বাংলাদেশ এই সনদের পক্ষভুক্ত রাষ্ট্র। ফলে শিশুদের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা শুধু মানবিক দায়িত্ব নয়; আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অধিকার রক্ষারও অংশ।
তবে অধিকার স্বীকার করাই যথেষ্ট নয়। সেই অধিকার বাস্তবে নিশ্চিত করতে বাজেট, দক্ষ জনবল, কার্যকর প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় পর্যায়ে সেবা এবং নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন। একই সঙ্গে ব্যর্থতা শনাক্ত করার মতো স্বচ্ছ ব্যবস্থাও থাকতে হবে।
হাম, ডেঙ্গু কিংবা পানিতে ডুবে মৃত্যুর প্রতিটি ঘটনাকে একইভাবে রাষ্ট্রীয় অবহেলার ফল বলা ঠিক হবে না। কিন্তু এসব মৃত্যুর উল্লেখযোগ্য অংশ প্রতিরোধের সুযোগ তৈরি করে। সেই সুযোগ কাজে লাগানো হয়েছে কি না, তা যাচাই করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
শিশুর মৃত্যু ঘটার পর শোক প্রকাশ স্বাভাবিক। কিন্তু শোকের পর যদি কোনো পর্যালোচনা না হয়, কোনো ঘাটতি সংশোধন না হয় এবং একই ঝুঁকিতে অন্য শিশুরা থেকে যায়, তবে সেই শোক কার্যকর পরিবর্তনে রূপ নেয় না।
প্রশ্ন তাই শুধু কে দায়ী, তা নয়; আরও জরুরি প্রশ্ন হলো, কোন ব্যবস্থা ব্যর্থ হয়েছে, কেন হয়েছে এবং পরবর্তী শিশুটিকে বাঁচাতে এখন কী করা হবে?
প্রতিরোধযোগ্য শিশুমৃত্যু কমানোর প্রথম শর্ত হলো এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খোঁজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সদিচ্ছা। শিশুরা ভোট দিতে পারে না, নিজেদের হয়ে জবাবদিহি চাইতে পারে না। তাই তাদের জীবন রক্ষায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব কম নয়, বরং আরও বেশি। কোনো শিশুর মৃত্যু যেন আরেকটি পরিসংখ্যান হয়ে হারিয়ে না যায়—এটাই হওয়া উচিত জনস্বাস্থ্য ও রাষ্ট্রীয় জবাবদিহির মূল লক্ষ্য।
-গণমাধ্যমকর্মী ও গবেষক



