বরগুনা প্রতিনিধি:
বরগুনায় পাঁচ দিনে ৫২৯টি বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৬ জন সন্দেহভাজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা পুলিশ। একই সময়ে ২১৩ কিশোর-কিশোরীকে আটক করে কাউন্সেলিংয়ের পর অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেলে বরগুনা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. মুকিত হাসান খাঁন এসব তথ্য জানান।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন থানায় গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ ও থানা-পুলিশের সদস্যরা এসব অভিযান পরিচালনা করেন। অভিযানে ৭৩০ পিস ইয়াবা ও চার কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ১৯টি মাদক মামলা করা হয়। পাশাপাশি ১৮টি সামারি ট্রায়ালের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয় বলে পুলিশ জানায়।
অভিযানে জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আড্ডা দেওয়া বা বিপথগামী হিসেবে চিহ্নিত ২১৩ কিশোর-কিশোরীকে আটক করা হয়। পরে তাদের কাউন্সেলিং এবং মুচলেকা গ্রহণের পর অভিভাবকদের জিম্মায় দেওয়া হয়।
আটক কিশোর-কিশোরীদের মধ্যে বরগুনা সদর থানায় ৪৩ জন, বেতাগীতে ১৩ জন, আমতলীতে ৫৬ জন, তালতলীতে ২০ জন, পাথরঘাটায় ২৭ জন এবং বামনা থানায় ৪২ জনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া ডিবি পুলিশ আরও ১২ জনকে আটক করে অভিভাবকদের জিম্মায় দেয়।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মুকিত হাসান খাঁন বলেন, মাদক, কিশোর গ্যাং, অনলাইন জুয়া, সাইবার অপরাধসহ সব ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। নিয়মিত অভিযান, চেকপোস্ট ও টহলও চলছে।
অভিভাবকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সন্তানদের চলাফেরা ও কর্মকাণ্ডের বিষয়ে খোঁজখবর রাখতে হবে, যাতে তারা স্কুল-কলেজ ফাঁকি দিয়ে অন্য কোথাও সময় না কাটায়। একই সঙ্গে রেজিস্ট্রেশনবিহীন মোটরসাইকেল চালানো এবং অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে অনলাইন জুয়া বা সাইবার অপরাধে জড়িয়ে পড়া থেকে তাদের বিরত রাখতে হবে।
তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, অভিভাবকের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করে কেউ এসব অপরাধে জড়ালে সংশ্লিষ্ট সিমের নিবন্ধিত মালিকের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।



