আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের জাতীয় নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। ৮৯ দশমিক ৮ শতাংশ ভোট গণনা শেষে জোটটির সম্ভাব্য আসনসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫৩টিতে। অন্যদিকে, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেতে পারে ৪৮টি আসন। তবে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ৬১ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারেনি কোনো পক্ষই।
এদিকে আরব নেতৃত্বাধীন দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে, যা দেশটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। ফলে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা ও জোটের সমীকরণে দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের প্রকাশিত তথ্যের বরাতে বুধবার এ খবর জানিয়েছে দ্য টাইমস অব ইসরায়েল।
নির্বাচনের আগে প্রকাশিত অধিকাংশ জনমত জরিপে আইজেনকোটের জোটকে এগিয়ে থাকতে দেখা গিয়েছিল। ভোটগ্রহণ শেষে প্রকাশিত বুথফেরত জরিপেও বিরোধী জোটের এগিয়ে থাকার ইঙ্গিত ছিল। তবে ভোট গণনা এগোনোর সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে এবং শেষ পর্যন্ত নেতানিয়াহুর জোট এগিয়ে যায়।
আসনসংখ্যার হিসাবে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি ২৬টি আসন পেতে পারে। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টির সম্ভাব্য আসন ২১টি।
নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াখাদ এবং আরব নেতৃত্বাধীন দ্য জয়েন্ট লিস্ট—উভয় দলই ১২টি করে আসন পেতে পারে। বামপন্থী ডেমোক্র্যাটসের সম্ভাব্য আসন আটটি।
অন্যদিকে, উগ্র ডানপন্থী ওতজমা ইয়েহুদিত, অতি-গোঁড়া ইহুদিদের শাস ও ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, আরব নেতৃত্বাধীন রা’আম এবং আভিগদর লিবারম্যানের ইসরায়েল বেইতেনু—প্রতিটি দল সাতটি করে আসন পেতে পারে। অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টির সম্ভাব্য আসন ছয়টি।
নেতানিয়াহুর জোটে রয়েছে লিকুদ, শাস, ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজম, ওতজমা ইয়েহুদিত ও রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি। বিদায়ী নেসেটে এই দলগুলোর সম্মিলিত আসন ছিল ৬৮টি। এবারের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, তা কমে ৫৩টিতে নেমে আসতে পারে।
অন্যদিকে, আইজেনকোটের জোটে রয়েছে ইয়াশার, বি’ইয়াখাদ, ডেমোক্র্যাটস ও ইসরায়েল বেইতেনু। দলগুলোর সম্মিলিত আসনসংখ্যা ৪৮ হতে পারে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য তাদের আরও ১৩টি আসন প্রয়োজন।
আরব নেতৃত্বাধীন দ্য জয়েন্ট লিস্টের নেতা ইউসেফ জাবারিন এবং রা’আমের নেতা মানসুর আব্বাসের দল দুটি সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পেতে পারে। এই ফল সরকার গঠনের ক্ষেত্রে তাদের প্রভাব বাড়াতে পারে। তবে বিরোধী জোটের কয়েকটি দল আরব দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে। ফলে তাদের সমর্থন পেলেও সরকার গঠনের সমীকরণ সহজ হবে না।
কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, তখনো প্রায় ৪ লাখ ৩০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৮০ হাজার বিশেষ ব্যালট গণনা বাকি ছিল। এসব ভোটের মধ্যে সেনাসদস্য, কারাবন্দি, বিদেশে কর্মরত কূটনীতিক এবং নির্ধারিত কেন্দ্রে ভোট দিতে না পারা ব্যক্তিদের ভোট রয়েছে।
বাকি ব্যালট গণনার পর দলগুলোর আসনসংখ্যায় পরিবর্তন আসতে পারে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চূড়ান্ত ফল আগামী ৪ নভেম্বর প্রকাশের কথা রয়েছে।
এ অবস্থায় ইসরায়েলের পরবর্তী সরকার কে গঠন করবে, তা নির্ভর করছে বাকি ভোটের ফল এবং রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সম্ভাব্য সমঝোতা ও জোট গঠনের আলোচনার ওপর।
সূত্র: দ্য টাইমস অব ইসরায়েল



