কলকাতা প্রতিনিধি:
ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন মারা গেছেন। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (১০ অক্টোবর) সকালে ভারতের কলকাতার একটি হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স কত হয়েছিল, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার সকাল ৭টার দিকে কলকাতার একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন রোটন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ৪ অক্টোবর রাতে তাঁকে কলকাতার অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছিল। দুই বছরের বেশি সময় ধরে ফুসফুসের ক্যানসারের চিকিৎসার জন্য তিনি কলকাতায় অবস্থান করছিলেন।
রোটনের মৃত্যুর খবর জানিয়ে শনিবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণবিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম। তিনি ছাত্রলীগের কর্মী হিসেবে রোটনের সঙ্গে পরিচয় এবং ১৯৯৬ সালের আন্দোলনে ঢাকার বিভিন্ন কর্মসূচিতে একসঙ্গে কাজ করার স্মৃতিচারণ করেন।
শোকবার্তায় আমিনুল ইসলাম বলেন, ছাত্রলীগের রাজনীতির মধ্য দিয়ে রোটনের রাজনৈতিক পথচলা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তিনি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন। একই সঙ্গে তিনি রোটনের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান।
মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন ২০০৬ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। ওই কমিটির সভাপতি ছিলেন মাহমুদ হাসান রিপন। ছাত্রলীগের রাজনীতিতে নেতৃত্ব দেওয়ার পর তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতিতেও সক্রিয় ছিলেন।
চট্টগ্রামের রাউজানের বাসিন্দা রোটন ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। পরে ২০২১ সালে আওয়ামী লীগের শ্রম ও জনশক্তিবিষয়ক উপকমিটির সদস্য হিসেবেও মনোনীত হন তিনি।
উল্লেখ্য, ছাত্রলীগ বর্তমানে নিষিদ্ধ সংগঠন হিসেবে পরিচিত। তবে রোটনের রাজনৈতিক জীবনের বড় অংশ কেটেছে ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে।


