Homeঅর্থনীতিএনসিটির পর এবার সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ

এনসিটির পর এবার সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের (এনসিটি) পর এবার চিটাগাং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) পরিচালনার দায়িত্বও বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ লক্ষ্যে সৌদি আরবভিত্তিক প্রতিষ্ঠান রেড সি গেটওয়ে টার্মিনালসকে (আরএসজিটি) দায়িত্ব দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিচ্ছে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ।

তবে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই সরকারি-সরকারি (জিটুজি) পদ্ধতিতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষক ও বন্দর ব্যবহারকারীরা। তাঁদের মতে, নতুন কোনো টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের হাতে দেওয়ার আগে প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের সুযোগ রাখা এবং বিদ্যমান ব্যবস্থাপনার কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটির পাশেই অবস্থিত সিসিটি। বন্দরের মোট কনটেইনার ওঠানামার প্রায় ১৬ শতাংশ এই টার্মিনালের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর টার্মিনালটির পরিচালনার দায়িত্ব আরএসজিটিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে।

এর আগে একই বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব ১৫ বছরের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ডিপি ওয়ার্ল্ডকে দেওয়ার বিষয়ে চুক্তি সই হয়েছে। অন্যদিকে, পতেঙ্গা কনটেইনার টার্মিনাল (পিসিটি) পরিচালনার দায়িত্বও পেয়েছে সৌদি প্রতিষ্ঠান আরএসজিটি।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, ধারাবাহিকভাবে সরকারি-সরকারি পদ্ধতিতে বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলে প্রতিযোগিতার সুযোগ সীমিত হতে পারে। এতে দেশীয় উদ্যোক্তাদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বিকাশের সুযোগও সংকুচিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সাবেক এক শীর্ষ কর্মকর্তা মনে করেন, একচেটিয়াভাবে জিটুজি পদ্ধতিতে টার্মিনাল পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া যথাযথ সিদ্ধান্ত নয়। তাঁর মতে, এ ধরনের সিদ্ধান্তে স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং দেশীয় প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণের বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

বন্দর ব্যবহারকারী ও সেবাদাতাদের একটি অংশও সিসিটির দায়িত্ব হস্তান্তরের আগে এনসিটিতে ডিপি ওয়ার্ল্ডের কার্যক্রম মূল্যায়নের পক্ষে। তাঁদের মতে, নতুন চুক্তির আগে সেবার মান, পরিচালন দক্ষতা, ব্যয় এবং কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের সক্ষমতা পর্যালোচনা করা উচিত।

সিসিটির ইতিহাসও দীর্ঘ। ১৯৮৬ সালে বর্তমান টার্মিনাল এলাকায় প্রথম সাধারণ জেটি চালু করা হয়। পরে ২০০৫ সালে নির্মাণ করা হয় প্রায় ৪৫০ মিটার দীর্ঘ সিসিটি। বর্তমানে টার্মিনালটি চট্টগ্রাম বন্দরের কনটেইনার পরিবহনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

সিসিটি ছাড়াও বন্দরের জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) এবং দ্য বে পোর্ট মাল্টিপারপাস টার্মিনাল পরিচালনায় আগ্রহ দেখিয়েছে আরএসজিটি। অন্যদিকে, পিসিটি পরিচালনার ক্ষেত্রেও একটি দেশীয় প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।

তবে সিসিটি পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত, সম্ভাব্য চুক্তির শর্ত, মেয়াদ এবং আর্থিক কাঠামো সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো স্পষ্ট নয়। এ অবস্থায় টার্মিনাল পরিচালনায় বিদেশি বিনিয়োগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা এবং জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

RELATED ARTICLES
- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments