ঢামেক প্রতিনিধি:
স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের ডাকা ধর্মঘট দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে। বুধবারও অ্যাম্বুলেন্স না পেয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন রোগী ও তাঁদের স্বজনেরা।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল থেকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগ, বহির্বিভাগ ও ২ নম্বর ভবনের সামনে রোগী ও তাঁদের স্বজনদের অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
রোগী শাহীন গাজীর ভাই শামীম গাজী জানান, তাঁর ভাই ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালের নতুন ভবনে ভর্তি রয়েছেন। তাঁরা ঢাকার সাভার থেকে এসেছেন। চিকিৎসকেরা তাঁর ভাইকে এমআরআই করানোর পরামর্শ দিয়েছেন। এ জন্য তাঁকে লালবাগের ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়া প্রয়োজন হলেও তাঁরা কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছেন না।
শামীম গাজী বলেন, “৩০ মিনিট ধরে অপেক্ষা করছি, কোনো অ্যাম্বুলেন্স পাচ্ছি না।”
৮০ বছর বয়সী রোগী শাহজাহান মিয়ার মেয়ে শাহিনা আক্তার বলেন, তাঁদের বাড়ি চাঁদপুরের মতলবে। গত ১৭ অক্টোবর তাঁর বাবাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। মঙ্গলবার তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হলেও অ্যাম্বুলেন্স না পাওয়ায় বাড়ি নিয়ে যেতে পারেননি তাঁরা।
শাহিনা আক্তার বলেন, “আজও সকাল থেকে অ্যাম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করেও পাইনি। তাই সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে নিয়ে যাচ্ছি।”
অন্যদিকে, সড়ক দুর্ঘটনায় আহত বোন সীমা আক্তারকে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স খুঁজছিলেন রেজাউল করিম। তিনি জানান, মঙ্গলবার মাওয়া রোডে দুর্ঘটনায় আহত হওয়ার পর তাঁর বোনকে ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর), যা পঙ্গু হাসপাতাল নামে পরিচিত, নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা।
রেজাউল করিম বলেন, “দুই থেকে তিন ঘণ্টা চেষ্টা করেও অ্যাম্বুলেন্স জোগাড় করতে পারিনি। শেষ পর্যন্ত ৯৯৯-এ ফোন করেও পাইনি। পরে জরুরি বিভাগের সামনে থাকা ঢাকা মেডিকেলের সরকারি অ্যাম্বুলেন্সের চালক আমাদের পঙ্গু হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। এখন সেই গাড়িতেই নিয়ে যাচ্ছি।”
এদিকে শফিক আহমেদ অভিযোগ করেন, হাসপাতালকেন্দ্রিক একটি সিন্ডিকেটের কারণে অ্যাম্বুলেন্স সেবা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর দাবি, বাইরে থেকে অ্যাম্বুলেন্স এনে রোগী নেওয়ার চেষ্টা করলেও স্থানীয় চালকেরা বাধা দিচ্ছেন।
তিনি বলেন, “রোগীদের জিম্মি করে তাঁরা আন্দোলন করছেন। সরকারের উচিত এই সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া।”
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. ইমন আলী বলেন, তাঁদের ধর্মঘট অব্যাহত রয়েছে। বুধবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে বৃহস্পতিবার থেকে ঢাকা মহানগর অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির পক্ষ থেকেও ধর্মঘটের ডাক দেওয়া হবে।
হাসপাতাল চত্বরে স্থায়ী পার্কিংয়ের দাবিতে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স মালিকেরা মঙ্গলবার থেকে এই ধর্মঘট শুরু করেন।
ধর্মঘটের কারণে রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়া, ছাড়পত্র পাওয়ার পর বাড়ি ফেরা এবং বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরের ক্ষেত্রে ভোগান্তি বাড়ছে।



