বিশেষ প্রতিনিধি:
দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নজির বিএনপিতে নতুন নয় বলে মন্তব্য করেছেন দলটির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল। তিনি বলেন, অতীতেও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠার পর সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বাংলাদেশ ন্যাপের চেয়ারম্যান শাওন সাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারের দাবিতে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট আয়োজিত মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
আলাল বলেন, নতুন করে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়ার পর বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্ব বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সতর্ক করেছেন। মন্ত্রিসভার বৈঠক, সংসদ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক এবং বিভাগীয় পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায়ও নেতাকর্মীদের আচরণে সতর্ক থাকার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
তার ভাষ্য, গণমাধ্যম ও সমালোচকদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ থাকায় দলের নেতাকর্মীদের আরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে বলা হয়েছে। কেউ মানুষের সঙ্গে উদ্ধত আচরণ করলে বা দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়ালে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির অতীতের উদাহরণ তুলে ধরে আলাল বলেন, ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি সরকারের সময়ও দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগের পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তৎকালীন ছাত্রদলের সভাপতি ও সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগের পর তাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ছাড়া কুষ্টিয়া যুবদলের তৎকালীন এক নেতার বিরুদ্ধে আধিপত্য বিস্তার ও ঠিকাদারি কাজে জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার এবং তার বাবাকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল বলে উল্লেখ করেন আলাল। সার কেলেঙ্কারির ঘটনায় চট্টগ্রামের এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও তিনি বলেন।
এর আগে বিএনপির বর্তমান নেতৃত্বের পক্ষ থেকেও দলীয় নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা প্রকাশ্যে বলা হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী এক পর্যায়ে দুই হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে বহিষ্কারের কথা জানিয়েছিলেন।
মানববন্ধনের মূল বিষয় শাওন সাদিকের ওপর হামলার প্রসঙ্গে আলাল বলেন, ঘটনাটি তাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। তিনি হামলার সঙ্গে জড়িত প্রকৃত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা বাড়ানোর আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপির অনেক নেতাকর্মী হামলা ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে রাজনৈতিক কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন।
আলাল আরও বলেন, বিএনপির নেতাকর্মীদের কেউ অপরাধে জড়ালে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার ধারা দলটির রাজনীতিতে আগেও ছিল। বর্তমানে দলের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
মানববন্ধনে জাতীয়তাবাদী সমমনা জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।


