নিজস্ব প্রতিনিধি:
ঢাকার পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নাগরিকদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। তিনি বলেছেন, রাজধানীর পরিবেশ রক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিলে এর প্রভাব পুরো শহরে পড়বে।
শনিবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ডিএসসিসির সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’ কর্মসূচিতে এসব কথা বলেন তিনি। একই দিনে দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একযোগে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা, মশক নিধন ও জনসচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়।
সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি এলাকায় কর্মসূচির উদ্বোধন করে ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকট ও সামাজিক আন্দোলনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। রাজধানীর বায়ুদূষণ, অপরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধেও শিক্ষার্থীদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শহীদ মিনার, টিএসসি, শাহবাগসহ জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলোর পরিচ্ছন্নতা শুধু সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নয়; এসব স্থান পরিষ্কার রাখা নাগরিকদেরও দায়িত্ব। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা জনসচেতনতা তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখতে পারেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ডিএসসিসির উদ্যোগে ২০০টি ডাস্টবিন স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান প্রশাসক। প্রয়োজনে ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সিটি কর্পোরেশনের পক্ষ থেকে অতিরিক্ত পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগের কথাও জানান তিনি।
পরে টিএসসি থেকে একটি সচেতনতামূলক র্যালি বের হয়ে কলা ভবনের অপরাজেয় বাংলার সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ২০০টি ডাস্টবিনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে বৃক্ষরোপণ, ফগার মেশিন বিতরণ এবং মশক নিধন কার্যক্রমও পরিচালিত হয়।
এদিকে ‘ক্লিনিং ডে’ উপলক্ষে মুগদায় পৃথক জনসচেতনতামূলক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ডিএসসিসি প্রশাসকের পাশাপাশি রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশ শেষে অতিথিরা ওয়াসা রোড প্রান্তের মান্ডা খাল পরিদর্শন করেন এবং বিশেষ পরিচ্ছন্নতা ও মশক নিধন অভিযানে অংশ নেন। পরে হায়দার আলী স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করা হয়।
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সাপ্তাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে কর্পোরেশনের ৭৫টি ওয়ার্ডে একই সময়ে পরিচ্ছন্নতা অভিযান ও মশক নিধন কার্যক্রম চালানো হয়েছে। আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও স্থানীয় বাসিন্দারা এতে অংশ নেন।
অভিযানের অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো, আবর্জনা পরিষ্কার এবং জনসচেতনতামূলক র্যালি করা হয়। ডেঙ্গুর প্রজননস্থল ধ্বংস এবং বাসাবাড়ি ও আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করা হয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানী, প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালাম ও ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক ইসরাফিল রতন উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ঢাবি শাখা ছাত্রদলের সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ সাধারণ শিক্ষার্থীরা কর্মসূচিতে অংশ নেন।


