Homeআন্তর্জাতিকবিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়বে জি-৭

বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়াতে ১০ কোটি ব্যারেল ছাড়বে জি-৭

চার মাসে জরুরি মজুত থেকে তেল ও ডিজেল বাজারে আনার সিদ্ধান্ত; প্রথম ২০ দিনেই বড় অংশ ছাড়ার পরিকল্পনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ সামাল দিতে জরুরি মজুত থেকে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও ডিজেল বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি-৭। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে আনা হবে।

শুক্রবার ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁর আহ্বানে জি-৭ নেতাদের ভার্চুয়াল বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা, বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ ও দামের চাপ নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠক শেষে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে জরুরি মজুত ব্যবহারের পাশাপাশি জি-৭ দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহে বাধা না দেওয়ার বিষয়ে একমত হওয়ার কথা জানানো হয়।

জি-৭-এর পরিকল্পনায় পুরো চার মাস অপেক্ষা না করে দ্রুত বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জোটের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর মজুত থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে আনার কথা রয়েছে। এরপর চার মাসজুড়ে সমন্বিতভাবে মোট ১০ কোটি ব্যারেল পর্যন্ত জ্বালানি সরবরাহের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।

আইইএ জানিয়েছে, বর্তমানে জ্বালানি বাজারে বিশেষ করে ডিজেলের সরবরাহ পরিস্থিতি চাপের মধ্যে রয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ও হরমুজ প্রণালির সংকটের প্রভাবের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের শোধনাগারে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় পরিশোধিত জ্বালানির সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনীয় হামলাও ডিজেল সরবরাহের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করেছে বলে আইইএ জানিয়েছে।

জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জি-৭ দেশগুলো নিজেদের মধ্যে তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্যের বাণিজ্যে নতুন কোনো রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

বৈঠকের পর মাখোঁ বলেন, জি-৭ নেতারা জ্বালানি পণ্যের দাম কমাতে সমন্বিতভাবে কাজ করার পাশাপাশি শোধনাগারগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হয়েছেন। একই সঙ্গে রক্ষণাবেক্ষণের সময়সূচি সমন্বয় করে একসঙ্গে একাধিক শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমানোর পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি বাজারে সাম্প্রতিক চাপের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে ডিজেল সরবরাহ নিয়ে টানাপোড়েনও তৈরি হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের জরুরি মজুত ব্যবহারের আহ্বান জানানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র থেকে ডিজেল রপ্তানি সীমিত করার সম্ভাবনার কথা বলেছিলেন। এর পরই ইউরোপীয় দেশগুলো কৌশলগত মজুত ব্যবহারের বিষয়ে আলোচনা শুরু করে।

মাখোঁর সঙ্গে ট্রাম্পের আলোচনার পর জি-৭ নেতাদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের পর ট্রাম্প জানান, ইউরোপ বড় পরিমাণ ডিজেল মজুত থেকে বাজারে ছাড়তে সম্মত হয়েছে। তবে জি-৭-এর যৌথ সিদ্ধান্তটি শুধু ইউরোপীয় মজুত নয়, জোটের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।

জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়াতে কৌশলগত মজুত ব্যবহার সাধারণত স্বল্পমেয়াদে সরবরাহের ঘাটতি মোকাবিলায় সহায়ক হতে পারে। তবে তেলের দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে বৈশ্বিক চাহিদা, শোধনাগারের উৎপাদন, সমুদ্রপথে সরবরাহ এবং ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর।

জি-৭ নেতারা প্রয়োজন হলে আরও ডিজেল মজুত বাজারে ছাড়ার সম্ভাবনাও খোলা রেখেছেন। একই সঙ্গে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন বাড়ানো এবং জ্বালানি পণ্যের আন্তঃদেশীয় সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।

জি-৭-এর সদস্য দেশ হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি ও জাপান। বর্তমান সিদ্ধান্তের মাধ্যমে এসব দেশের জরুরি মজুত থেকে জ্বালানি বাজারে সরবরাহ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববাজারে ডিজেলের সংকট মোকাবিলায় সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -

Most Popular

Recent Comments